গাজীপুরের ঐতিহ্যবাহী ফলের প্রচার-প্রসারে উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস তথ্যমন্ত্রীর

এবারের মেলায় দেশীয় বিভিন্ন জাতের মোট ৩৪ প্রকার ফল প্রদর্শন করা হয়। মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল গাজীপুরের ঐতিহ্যবাহী প্রায় ৩৫ কেজি ওজনের একটি বিশাল কাঁঠাল, যা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মন্ত্রীর সামনে প্রদর্শন করা হয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
গাজীপুরে ফল মেলার উদ্বোধন করলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন
গাজীপুরে ফল মেলার উদ্বোধন করলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন |সংগৃহীত

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন আজ এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গাজীপুরের ‘ফল মেলা-২০২৬’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। এ সময় তিনি গাজীপুরের ঐতিহ্যবাহী ফলের বহুমুখী ব্যবহার ও প্রচার-প্রসার বৃদ্ধিতে দেশব্যাপী প্রচারণার আশ্বাস দেন।

গাজীপুর জেলা সদর উপজেলা চত্বরে জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের যৌথ আয়োজনে ‘ফল মেলা-২০২৬’ এবং কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো: নূরুল করিম ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।

এবারের মেলায় দেশীয় বিভিন্ন জাতের মোট ৩৪ প্রকার ফল প্রদর্শন করা হয়। মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল গাজীপুরের ঐতিহ্যবাহী প্রায় ৩৫ কেজি ওজনের একটি বিশাল কাঁঠাল, যা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মন্ত্রীর সামনে প্রদর্শন করা হয়।

এ সময় জেলা প্রশাসক জানান, কাঁঠাল ও কাঁঠালজাত পণ্য বিদেশে রফতানির প্রচেষ্টা চলছে। বর্তমানে এ খাতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বাজার রয়েছে, যা সুষ্ঠু প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা সম্ভব। তিনি গাজীপুরের কাঁঠালের ব্যাপক প্রচার-প্রসারে উদ্যোগ নেয়ার জন্য মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

বিশাল আকৃতির কাঁঠাল দেখে মন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং গাজীপুরের ঐতিহ্যবাহী এ ফলের বহুমুখী ব্যবহার ও প্রচার-প্রসার বৃদ্ধিতে দেশব্যাপী প্রচারণার আশ্বাস দেন।

জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে ফল মেলার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘ফল মেলার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে দেশীয় ফলের সাথে নতুন করে পরিচিত করা এবং এসব ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। একইসাথে দেশীয় ফলের ব্যবহার বাড়িয়ে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা।’

তিনি আরো বলেন, দেশীয় ফল, ফুল ও গাছপালার সংরক্ষণ এবং ঐতিহ্য রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে গাজীপুর জেলায় নয় হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের আবাদ হয়েছে এবং মোট উৎপাদন হয়েছে প্রায় দুই লাখ ৪০ হাজার টন।

গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: সাজ্জাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো: রফিকুল ইসলাম খান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মইন খান এলিস, জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ড. মো: আবদুল্লাহ আল ফারুক এবং অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আবদুল মতিন বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গাজীপুরের ভাওয়াল অঞ্চলের উঁচু লাল মাটি, অনুকূল আবহাওয়া এবং প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা কাঁঠাল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ কারণেই এখানকার কাঁঠাল আকারে বড় এবং স্বাদে অনন্য।

এদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় পরিবেশ উন্নয়ন ও ফল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমও শুরু করা হয়। উদ্বোধনী দিনে ৬০ জন প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে প্রণোদনা বিতরণ করা হয়।

প্রত্যেক কৃষককে পাঁচটি করে উন্নত জাতের ফলদ গাছের চারা, পাঁচটি করে বাঁশের খুঁটি এবং ৪০ কেজি করে পরিবেশবান্ধব ভার্মি কম্পোস্ট (জৈব সার) বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। কৃষিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জৈব সারের ব্যবহারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। বাসস