পবিত্র ঈদুল আজহার ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবতার চেতনাকে ধারণ করে প্রতি বছরের মতো এবারও দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বৃহৎ কোরবানি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশী সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘মাস্তুল ফাউন্ডেশন’। দেশের সুবিধাবঞ্চিত, অসহায় ও দুর্যোগপ্রবণ জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি এবার যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা ও সুদানের তীব্র সংকটাপন্ন মানুষের কাছেও কোরবানির গোশত পৌঁছে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
গাজা, সুদান সহ বাংলাদেশে ঈদুল আজহায় ৫০ হাজার মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে মাস্তুল ফাউন্ডেশন"—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০২৬ সালের ২৮ মে থেকে ঈদের তৃতীয় দিন পর্যন্ত এই মানবিক কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৩৭টি জেলায় এই কোরবানি কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অবহেলিত, দুর্গম, চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকার পাশাপাশি এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, মাদ্রাসা এবং বন্যাকবলিত এলাকার অসহায় পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। কার্যক্রমের আওতায় থাকা জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে— কক্সবাজার, কিশোরগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, কুমিল্লা, খুলনা, চট্টগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, টাঙ্গাইল, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নাটোর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ফরিদপুর, ফেনী, বগুড়া, বরগুনা, বরিশাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ময়মনসিংহ, যশোর, রংপুর, রাজশাহী, রাজবাড়ী, লক্ষ্মীপুর, লালমনিরহাট, শেরপুর, সাতক্ষীরা ও সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চল।
বিশেষ ফোকাস হিসেবে, অবরুদ্ধ গাজায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়কেন্দ্র ও শরণার্থী ক্যাম্পে কোরবানির আমানত পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— জাবালিয়া ক্যাম্প, রাফাহ ক্যাম্প, খান ইউনিস ক্যাম্প, নুসেইরাত ক্যাম্প, দেইর আল-বালাহ ক্যাম্প এবং মিশর সীমান্তবর্তী আল-আরিশ অস্থায়ী ক্যাম্প। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রকৃত অসহায় মানুষের হাতে এই গোশত তুলে দেওয়া নিশ্চিত করা হচ্ছে।
স্বচ্ছতার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিতভাবে গাজায় পরিচালিত কোরবানি ও ত্রাণ কার্যক্রমের সরাসরি চিত্র ও ভিডিও আপডেট প্রকাশ করা হচ্ছে।
মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক কাজী রিয়াজ রহমান বলেন,
“আমাদের সকল প্রচেষ্টা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। ঈদুল আজহা আমাদের ত্যাগের শিক্ষা দেয়। আমাদের এই কোরবানি কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো সেই ত্যাগের আনন্দ সমাজের প্রতিটি মানুষের মাঝে পৌঁছে দেওয়া। আমরা চাই, কেউ যেন ঈদের আনন্দ ও কোরবানির মাংস থেকে বঞ্চিত না থাকে। দেশ-বিদেশের শুভানুধ্যায়ী, দাতা ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় এবারের কোরবানি কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”
প্রতিষ্ঠানের চিফ অপারেটিং অফিসার (COO) ফারহানা ইয়াসমিন বলেন,
“আলহামদুলিল্লাহ, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকার হাজারো পরিবারের মাঝে কোরবানির গোশত পৌঁছে দিতে পেরেছি। মানুষের হাসিমুখই আমাদের এই উদ্যোগকে সার্থক করেছে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার সংকটাপন্ন মানুষের কাছেও কোরবানির সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল। মানবিকতার এই বন্ধন ভবিষ্যতেও আমরা ধরে রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এই কার্যক্রমের মাধ্যমে মাস্তুল ফাউন্ডেশন আবারও প্রমাণ করেছে— ত্যাগের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায়।



