রেলভবনে নিজেই প্রবেশ কার্ড পাঞ্চ করলেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ

পদমর্যাদা যতই বড় হোক না কেন, প্রতিষ্ঠানের নিয়ম সবার জন্য সমান, এই বার্তাই প্রতিমন্ত্রীর এ উদ্যোগের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
রেলভবনে নিজেই প্রবেশ কার্ড পাঞ্চ করেছেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ
রেলভবনে নিজেই প্রবেশ কার্ড পাঞ্চ করেছেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ |সংগৃহীত

সরকারি দফতরে শৃঙ্খলা, নিয়ম-নীতি অনুসরণ এবং জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রেলভবনে প্রবেশের সময় তিনি নিজেই নিজের অফিসিয়াল প্রবেশ কার্ড (অ্যাকসেস কার্ড) পাঞ্চ করে অফিসে প্রবেশ করেন।

প্রতিমন্ত্রীর এ আচরণ উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রশংসার সৃষ্টি করে। একজন মন্ত্রী বা উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করে সাধারণ কর্মীদের মতোই প্রবেশ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

এর মাধ্যমে তিনি সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়ম মেনে চলা, সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্বশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি দফতরের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা জরুরি।

পদমর্যাদা যতই বড় হোক না কেন, প্রতিষ্ঠানের নিয়ম সবার জন্য সমান, এই বার্তাই প্রতিমন্ত্রীর এ উদ্যোগের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।

তারা আরো বলেন, নেতৃত্বের পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিদের আচরণ ও কর্মকাণ্ড অধীনস্থদের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি যখন নিজে নিয়ম মেনে চলেন, তখন প্রতিষ্ঠানের অন্য সদস্যরাও তা অনুসরণে উৎসাহিত হন।

রেলপথ প্রতিমন্ত্রীর এ উদ্যোগ সরকারি দফতরে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতার পরিবেশ আরো সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি অফিস ব্যবস্থাপনায় সময়ানুবর্তিতা, নিয়মিত উপস্থিতি এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্ব পেয়ে আসছে।

আধুনিক প্রশাসন ব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর উপস্থিতি ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই মনে করেন, শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা যদি নিয়ম-শৃঙ্খলার বিষয়ে এমন ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন, তাহলে সরকারি দফতরগুলোতে কর্মপরিবেশ আরো কার্যকর ও গতিশীল হবে।

একইসাথে জনগণের সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থাও বাড়বে।

রেলপথ প্রতিমন্ত্রীর এ উদ্যোগ সরকারি দফতরে নিয়ম মেনে চলার সংস্কৃতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি দায়িত্বশীল প্রশাসনের একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাসস