ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) জানিয়েছেন, হজ যাত্রীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত, স্বাস্থ্যসেবা ইমিগ্রেশন ও প্রি-ডিপারচার সুবিধা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় পাঁচটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
আজ মঙ্গলবার সংসদে ঢাকা-১৮ আসনের সরকারি দলের সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের টেবিলে উপস্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে ধর্মমন্ত্রী মোফাজ্জাল হোসাইন জানান, হজক্যাম্পের সামনে আন্ডারপাসের কার্যক্রম চলমান থাকায় হজক্যাম্প থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত হজযাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াতের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং ট্রাফিক বিভাগের সাথে সমন্বয় করে একটি ‘ডেডিকেটেড ট্রাফিক রুট’ পরিকল্পনা কার্যকর করা হয়েছে।
তিনি জানান, হজক্যাম্পের অভ্যন্তরে ২৪ ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহায়তায় একটি সুসজ্জিত মেডিক্যাল সেন্টার পরিচালনা করা হবে। উক্ত সেন্টারে ১৯ জন চিকিৎসক (পুরুষ-১০ ও মহিলা-৯); উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ১২ জন; সিনিয়র স্টাফ নার্স-১৪ জন এবং স্যানিটারি ইন্সপেক্টর চারজন নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া গুরুতর অসুস্থদের দ্রুত স্থানান্তরের জন্য সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স নিয়োজিত রাখা হবে। অর্থাৎ হজযাত্রী তার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ওই মেডিক্যাল সেন্টার থেকে নিতে পারবেন।
তিনি আরো জানান, একজন হজযাত্রীর বোর্ডিং ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম হজক্যাম্পে সম্পন্ন হয়ে থাকে। এছাড়াও হজযাত্রীদের নিরাপদে সৌদি আরব গমনের লক্ষ্যে রাজকীয় সৌদি আরব সরকারের সহযোগিতায় ‘মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই হজযাত্রীদের সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে থাকে। এর ফলে হজযাত্রীদের সৌদি আরবে পৌঁছে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে হয় না।
মন্ত্রী জানান, ‘মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম এখন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে হজযাত্রীদের সৌদি আরবে পৌঁছে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করিতে হয় না। বিশ্বের অল্প কয়েকটি দেশের হজযাত্রীরা এই বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকে। বোর্ডিং ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্নের আগে লাগেজ ট্যাগিং কাউন্টার থেকে সকল হজযাত্রীর লাগেজে ট্যাগিং করা হয়ে থাকে।
মোফাজ্জাল হোসাইন জানান, হজ মৌসুমে হজক্যাম্পে ২৪/৭ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়ে থাকে, যা সরাসরি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে তদারকি করা হয়ে থাকে। লাব্বাইক মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে প্রতিটি হজযাত্রীর অবস্থান ও যাত্রা ট্র্যাকিং করা হয়ে থাকে।
এছাড়াও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ও সচিবের নেতৃত্বে একাধিক টিম নিয়মিত হজক্যাম্প ও বিমানবন্দরে হজযাত্রী সেবার মান সরেজমিনে তদারকি করে থাকেন। পাশপাশি হজযাত্রীদের তাৎক্ষণিক অভিযোগ বা পরামর্শের জন্য ‘১৬১৩৬’ কল সেন্টার ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে।


