স্বাধীন গণমাধ‌্যম কমিশন গঠনের তাগিদ তথ্যমন্ত্রীর

স্বাধীনতার সাথে দায়িত্বের কোনো বিরোধ নেই। নৈরাজ্যপূর্ণ স্বাধীনতা অর্জিত সভ্যতাকেও ধ্বংস করতে পারে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন
বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন |ইউএনবি

দেশের গণমাধ্যম খাতে একটি স্বাধীন, দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, গণমাধ্যম পরিচালনায় কেবল নিয়ন্ত্রণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি নয়, বরং সব অংশীজনকে নিয়ে জবাবদিহিমূলক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য সরকার সব পক্ষের সাথে মতবিনিময় করছে।

আজ রোববার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সম্পাদক ও সংবাদ প্রধানদের নিয়ে গঠিত টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল’ টিইসির নেতাদের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে একটি ‘ধারণাগত ঘাটতি’ রয়েছে। মালিক, উদ্যোক্তা, সাংবাদিক ও সরকারের মধ্যে গণমাধ্যমকে আধুনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার বিষয়ে সমন্বিত চিন্তার অভাব ছিল। ফলে খাতটি অনেকাংশে ব্যক্তি প্রভাব, বিনিয়োগ ও ক্ষমতার বলয়ে পরিচালিত হয়েছে।

তিনি বলেন, গণমাধ্যম এমন একটি জগৎ যেখানে সরকার নিজেও একটি অংশীজন। তাই সরকার একদিকে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে, অন্যদিকে অন্য অংশীজনদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অতীতে সরকারগুলো গণমাধ্যমকে মূলত নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টিতে দেখেছে। এর ফলে গণমাধ্যম খাতে অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার ও অস্বচ্ছতা তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ আয় রক্ষার হাতিয়ার হিসেবেও গণমাধ্যম ব্যবহার হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে একটি ‘কোয়াসি জুডিশিয়াল কমিশন’ বা স্বাধীন কর্তৃপক্ষ গঠন ছাড়া বিকল্প নেই। তবে সেই কমিশন যেন আবার কোনো সরকারের রাজনৈতিক হাতিয়ার না হয়ে ওঠে, সেদিকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, নামে কমিশন, কিন্তু বাস্তবে যেন কোনো ফ্যাসিস্ট সরকারের ইন্সট্রুমেন্ট না হয়- সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল গঠনকে ঐতিহাসিক উদ্যোগ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের পেশাভিত্তিক সংগঠন গণমাধ্যম সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি সম্পাদকদের মালিকপক্ষ, কেবল অপারেটর, ব্রডকাস্টিং ইঞ্জিনিয়ার, গ্রাফিকস ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সাথেও মতবিনিময়ের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, গণমাধ্যম শিল্পে শ্রম আইন, কর ব্যবস্থা, বেতন-ভাতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে কোনো প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়ন হওয়া উচিত নয়। তবে এসব সিদ্ধান্ত যেন রাজনৈতিক দর কষাকষির হাতিয়ার না হয়, সে জন্যই স্বাধীন কমিশনের প্রয়োজন রয়েছে।

সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশের কারণে বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যম ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তনের সাথে রাষ্ট্র ও সমাজ এখনো পুরোপুরি খাপ খাওয়াতে পারেনি।

তিনি বলেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) মানুষের সক্ষমতাকে কোটি গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে সাংবাদিকতাসহ অনেক পেশার চরিত্র বদলে যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় গণমাধ্যম খাতকে নতুনভাবে ভাবতে হবে।

গণমাধ্যমে কল্যাণমুখী স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সাথে দায়িত্বের কোনো বিরোধ নেই। নৈরাজ্যপূর্ণ স্বাধীনতা অর্জিত সভ্যতাকেও ধ্বংস করতে পারে।

সভায় তিনি সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি সব অংশীজনকে নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ঐকমত্য তৈরির আহ্বান।

সূত্র : ইউএনবি