২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার হলফনামায় সম্পদের বিস্তর ব্যবধান ছিল। দুর্নীতি দমন কমিশন এবং নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে কাজ করলে সেই সময় শেখ হাসিনার প্রার্থিতা বাতিল হতো বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।
আজ রোববার দুদক বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন র্যাকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
২০০৮ সালের ভোটের উদাহারণ টেনে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আপনাদের মনে করিয়ে দেই ২০০৮ সালের নির্বাচনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনি সম্পদের হলফনামায় যে বিবরণী দিয়েছিলেন এবং বাস্তবে আমরা যে সম্পত্তি পেয়েছি তার মধ্যে ছিল বিস্তর ব্যবধান। সে সময় যদি দুর্নীতি দমন কমিশন এবং নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে কাজ করতো, তাহলে সেই সময়ই তার এই প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটি বাতিল হয়নি।’
অল্প সময়ে হলফনামা অনুসন্ধান কঠিন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেই সময়টায় এতো সূক্ষভাবে আমাদের পক্ষে কাজ করা সম্ভব হবে না।’
হলফনামা অনুসন্ধানের সাংবাদিকদের সাহায্য চেয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আপনারা যদি কোনো হলফনামার কোন কোন ব্যক্তির সম্পদ নিয়ে সন্দিহান হন, অনুগ্রহ করে আপনারা এটা সবার আগে আমাদের হাতে দিন। আপনারা নিজেরাও তো অনুসন্ধানকারী। অনুসন্ধান করে নিয়ে আমাদের অনুসন্ধানে সহায়তা করুন। আমরা চাইব না হলফনামায় প্রদর্শিত হয়নি এরকম সম্পদের মালিক আগামী দিনে শাসক হিসেবে।’
তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা সবার জন্য সুশাসন এবং ন্যায়বিচার। কাজেই ন্যায়নিষ্ঠ এবং সুবিচার সম্পন্ন একটি রাষ্ট্র গঠন করার জন্য যা যা প্রয়োজন আমাদের প্রত্যাশায় এই বছর আমরা সেগুলো পাবো। তারপরও কতগুলো সঙ্কট থেকে যায়। দুর্নীতি তো আমাদের একটি বড় সঙ্কট, এমনিতেই এই দুর্নীতি যাতে নিরসন হয় আমরা সেদিকটা সবাই লক্ষ্য রাখব এবং আমাদের শাসক যারা হবেন তারা যেন ন্যায়নিষ্ঠ এবং সৎ হোন সেদিকটা আমাদের প্রত্যাশা থাকবে।
দুদক চেয়ারম্যান ছাড়াও দুদক কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ, সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
র্যাকের সাধারণ সম্পাদক তাবারুল হকের সঞ্চালনায় সংগঠনটির সভাপতি শাফি উদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : বাসস



