সুন্দরবনে বনদস্যু দমনে চলমান অভিযান বাধাগ্রস্থ করতে কোস্টগার্ড স্টেশনে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার সকালে একদল দুর্বৃত্ত সুন্দরবনের জয়মনির ঘোল কোস্ট গার্ড স্টেশন হারবারিয়ায় হামলা ও ভাংচুর চালায়।
কোস্টগার্ড বলছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কোস্ট গার্ডের চলমান সফল কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে।
কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গতকাল জয়মনির ঘোল এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড স্টেশনে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা ও ভাংচুর চালায়। এতে দায়িত্বরত কয়েকজন কোস্ট গার্ড সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু চক্র নিজেদের অপকর্মের সুবিধার্থে ওই এলাকা থেকে কোস্ট গার্ডকে সরিয়ে দিতে পরিকল্পিতভাবে হামলা, ভাঙচুর, অপপ্রচার এবং বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।
সুজন বলেন, সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতিসহ যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান পরিচালনা করে থাকে। বিশেষ করে সুন্দরবনের মোংলা থানাধীন জয়মনির ঘোল এলাকা দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হওয়ায় সেখানে কোস্ট গার্ড স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে বনদস্যুদের কাছে রসদ, লজিস্টিক সহায়তা, অস্ত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বনদস্যু ও তাদের সহযোগীরা ওই এলাকায় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি চায় না।
তিনি বলেন, কোনো ধরনের অপপ্রচার, বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা কিংবা কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র বাহিনীর চলমান দায়িত্ব পালন ও অভিযানিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারবে না। এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মী, স্থানীয় জনগণ এবং সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে প্রকৃত তথ্য যাচাইপূর্বক দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য অনুরোধ জানান তিনি।



