যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম প্রত্যাহার

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আবিদা ইসলামকে লন্ডনে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়।

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের  হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম |নয়া দিগন্ত

যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে দেশে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত মাসে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম কোনো রাষ্ট্রদূত বা মিশনপ্রধানকে প্রত্যাহার করা হলো। প্রায় এক বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালনের পর তাকে প্রত্যাহার করলো নতুন সরকার।

বিষয়টি নিশ্চিত করে লন্ডন সফররত প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড: হুমায়ুন কবির শনিবার (৭ মার্চ) বাংলাদেশ সময় রাত ১ টার দিকে লন্ডনে উপস্থিত সাংবাদিকদের ‘একটা সুখবর আছে’ উল্লেখ করে বলেন, হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন,' যে হাইকমিশনার ডিভাইসিভ (বিভেদমূলক) আচরণ করে কমিউনিটিকে ডিভাইড (বিভক্ত) করে রেখেছে, যে আওয়ামীকরণ করেছে হাইকমিশনকে, আওয়ামী লীগের ধান্দায় চলেছে, কমিউনিটির ধান্দা নাই, বাংলাদেশের ইন্টারেস্ট দেখে না, এই হাইকমিশনারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।'

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আবিদা ইসলামকে লন্ডনে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়।

এর আগে বহুল আলোচিত হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিমকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আবিদা ইসলাম এর আগে মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। তার আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া কলকাতায় বাংলাদেশের প্রথম নারী ডেপুটি হাইকমিশনার (প্রধান মিশন) হিসেবেও কাজ করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে তিনি আমেরিকা অনুবিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখায় দায়িত্ব সামলেছেন।

এদিকে যুক্তরাজ্যে কে হচ্ছেন নতুন হাইকমিশনার এ নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে। নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দুজনের নাম আলোচনায় রয়েছে । মস্কোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাস্ট্রদূত ফয়সাল আহমদ ও মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাস্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারি পরবর্তী হাইকমিশনার হতে পারেন লন্ডনে।

তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, মুশফিকুল ফজল আনসারিকে সরকার আমেরিকায় গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিতে পারে - এমন একটা গুঞ্জন রয়েছে।

সেক্ষেত্রে ফয়সাল আহমেদের সম্ভাবনা বেশি লন্ডনে নিয়োগ পাওয়ার।

তবে বিষয়টি এখনো আলোচনার টেবিলে। এই দুজনের যে কেউ অথবা নতুন অন্য কেউ হতে পারেন লন্ডনে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার।