দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবেলায় র্যাবের মতো একটি দক্ষ ও বিশেষায়িত বাহিনী প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো: লুৎফুজ্জামান বাবর।
তিনি বলেছেন, র্যাবের অতীতে কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থাকলেও বাহিনীটির সন্ত্রাস দমন ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে বোমা হামলা, সন্ত্রাসী তৎপরতা ও বিভিন্ন নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলায় এ ধরনের একটি বিশেষায়িত বাহিনীর প্রয়োজন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শেষ দিনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল-২০২৬’ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে র্যাব বিলুপ্ত করে একই ধরনের নতুন বাহিনী গঠনের উদ্যোগের বিরোধিতা করে বিলটি প্রত্যাহারের দাবি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে বক্তব্য দেন লুৎফুজ্জামান বাবর।
সাবেক এই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধীদলীয় সদস্যরা মূলত গত ১৫ বছরের শাসনামলে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকে সামনে রেখে এসআরবি নিয়ে আপত্তি তুলছেন। কিন্তু এর আগের সময়ে র্যাবের যে কার্যক্রম ছিল, সেটিও বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার পর বিভিন্ন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার, চাঁদাবাজি দমন এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় র্যাব কাজ করেছে।’
বাহিনীটির বিভিন্ন সফল অভিযানের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘র্যাবের মতো একটি সংগঠন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ বাহিনীটি সে সময় অত্যন্ত দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।’
তার দাবি, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় র্যাবকে রাজনৈতিকভাবে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়নি।
বাবর বলেন, সম্প্রতি র্যাব বিলুপ্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী র্যাব বিলুপ্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও তিনি যুক্তি দিয়ে র্যাব বিলুপ্ত না করার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। পরে তার সাথে এ বিষয়ে আর আলোচনা না হলেও তিনি মনে করেন, র্যাবের মতো একটি সংগঠন দেশের প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় বোমা হামলার ঘটনা ঘটছে এবং বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী একটি দেশ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে। এসব কারণে র্যাবের মতো একটি বিশেষায়িত সংগঠনের প্রয়োজন রয়েছে।’
র্যাবের বিরুদ্ধে অতীতের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে বাবর বলেন, তিনি নিজেও র্যাবের হাতে ভুক্তভোগী হয়েছেন। ২০০৭ সালের ২৮ মে তাকে গ্রেফতার করে মিথ্যা অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে একটি বাহিনীর কিছু সদস্যের অপরাধের কারণে দেশের নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় একটি বিশেষায়িত বাহিনী পুরোপুরি বাদ দেয়া উচিত কি না, সেটিও বিবেচনার বিষয় বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
তিনি বলেন, ‘এসআরবি গঠনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ভবিষ্যতে বাহিনীটি কীভাবে পরিচালিত হবে এবং সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও সরকারপ্রধান কীভাবে এর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করবেন।’ এ বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতাসহ সংসদ সদস্যদের আশ্বস্ত করেন তিনি।
বাবর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, দেশের জনগণের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার স্বার্থেই এসআরবি গঠন প্রয়োজন। রাষ্ট্রের নিরাপত্তার গভীর স্বার্থে এমন কিছু বিষয় থাকতে পারে, যা প্রকাশ্যে বলা সম্ভব নয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি বিশেষায়িত বাহিনীর প্রয়োজন রয়েছে।’
বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা যেন এ মুহূর্তে এসআরবি গঠনের উদ্যোগকে অনুমোদন করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করেছেন—পরবর্তী সময়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কোনো সংশোধন বা পরিবর্তনের প্রস্তাব থাকলে তা বিবেচনা করে সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হবে।
বাবর বলেন, ‘এই মুহূর্তে আপনারা এটাকে এলাও করেন। আমাদের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, পরবর্তী সময়ে আপনাদের পক্ষ থেকে যেকোনো কারেকশন থাকলে তিনি অ্যামেন্ডমেন্ট করে দেবেন।’
এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান এসআরবি বিল নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘র্যাবের স্থাপনা, লজিস্টিক ও ক্ষমতার কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে শুধু নাম পরিবর্তন করলে জনগণ তা গ্রহণ করবে না।’ তিনি বিলটি প্রত্যাহার করে স্টেকহোল্ডারদের সাথে আরো আলোচনা ও পর্যালোচনার দাবি জানান।



