বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে শায়খ আহমাদুল্লাহ, মামুনুল হক ও আজহারীর বিশেষ আহ্বান

কমেন্টে সংযুক্তি দিয়ে মাওলানা আজহারী লেখেন, ‘আল্লাহ তাআলা ক্ষতিগ্রস্ত সকল মানুষকে হেফাজত করুন এবং দ্রুত এই দুর্যোগ থেকে মুক্তি দান করুন।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
শায়খ আহমাদুল্লাহ, মাওলানা মামুনুল হক ও মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী
শায়খ আহমাদুল্লাহ, মাওলানা মামুনুল হক ও মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটিসহ দেশের বেশিরভাগ পাহাড়ি অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন দেশের জনপ্রিয় তিন আলেম- শায়খ আহমাদুল্লাহ, মাওলানা মামুনুল হক ও মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী।

শুক্রবার (১০ জুলাই) মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘বৃহত্তর চট্টগ্রামের বহু এলাকা বন্যায় পানির নিচে তলিয়ে গেছে। হাজার হাজার ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। অসংখ্য মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ পর্যন্ত ৩৩ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।’

এমন পরিস্থিতিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো লিখেছেন, ‘আসুন, আমরা সবাই মিলে বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়াই। সরকারের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি দাতব্য সংস্থা, মানবিক সংগঠন এবং দেশের সামর্থ্যবান মানুষের প্রতি আহ্বান— জরুরি ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে ত্রাণ, চিকিৎসা সহায়তা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন।’

কমেন্টে সংযুক্তি দিয়ে মাওলানা আজহারী লেখেন, ‘আল্লাহ তাআলা ক্ষতিগ্রস্ত সকল মানুষকে হেফাজত করুন এবং দ্রুত এই দুর্যোগ থেকে মুক্তি দান করুন।’

মাওলানা মামুনুল হক তার ফেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘দেশের পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি আজ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা ও শেরপুরের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। একইসাথে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের বহু এলাকা ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে অসংখ্য পরিবার আজ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে। বিশুদ্ধ পানি, পর্যাপ্ত খাদ্য ও জরুরি চিকিৎসাসেবার সঙ্কটে তারা প্রতিটি মুহূর্ত অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে অতিবাহিত করছেন।’

তিনি লিখেছেন, ‘এই ভয়াবহ দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি ত্রাণ কার্যক্রম আরো জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। দুর্গত এলাকায় পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র চালু রাখা, বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা, ভ্রাম্যমাণ মেডিক্যাল টিম মোতায়েন করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ আজ সময়ের অপরিহার্য দাবি। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে আরো সক্রিয় ও সমন্বিত ভূমিকা পালন করতে হবে।’

তিনি লেখেন, ‘এই সঙ্কটময় সময়ে নীরব দর্শক হয়ে থাকার সুযোগ নেই। ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধের আলোকে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের ঈমানি ও মানবিক দায়িত্ব। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে আমি দেশের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি—আসুন, যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াই এবং তাদের দুর্দিন লাঘবে সর্বাত্মক সহযোগিতা করি।

আমি সংগঠনের সকল স্তরের দায়িত্বশীল ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানাচ্ছি, বিশেষ করে সিলেট, চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলের শাখাগুলোকে দ্রুত স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে। বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেয়ে মহৎ মানবিক ও কল্যাণকর কাজ এ মুহূর্তে আর হতে পারে না।’

মাওলানা মামুনুল হক লেখেন, ‘পরিশেষে, মহান রব্বুল আলামীনের দরবারে ফরিয়াদ—তিনি যেন আমাদের দেশকে এই দুর্যোগ থেকে দ্রুত মুক্তি দান করেন, বন্যাকবলিত প্রতিটি পরিবারের ওপর তার রহমত ও সাহায্য নাযিল করেন, ক্ষতিগ্রস্তদের ধৈর্য ও শক্তি দান করেন এবং আমাদের সবাইকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাওফিক দান করেন। আমিন।’

শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ ব্যাপারে লিখেছেন, ‘অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে আমাদের টিম চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। খুব শিগগিরই দুর্গতদের মাঝে জরুরি ত্রাণ এবং বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে ইনশাআল্লাহ। মহান আল্লাহ দুর্গতদের কষ্ট লাঘব করুন।’

কমেন্টে সংযুক্তি দিয়ে শায়খ লেখেন, ‘এই দুর্যোগে আশপাশের মানুষদের এগিয়ে আসার এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা করার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’