শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, বিগত সময়ে মুক্তচিন্তার সুযোগ ছিল না বলেই শিক্ষার বিকাশ ঘটেনি।
শনিবার (২ জুলাই) ঢাকা কলেজের অডিটোরিয়ামে বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও শিক্ষা ক্যাডারের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথিরি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘ছাত্র-জনতা যে উদ্দেশ্যে দেশ ফ্যাসিস্ট মুক্ত করেছে, সে উদ্দেশ্যকে বাঁচিয়ে রেখে শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘সময় এসেছে তরুণদের শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার, দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে নিজেদের তৈরি করার। বর্তমানে একটা অস্থির সময় পার করছে দেশ, বিচক্ষণতার সাথে এই সময়টা পার করতে হবে। শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্বমানের মাপকাঠিতে নিজেদের বিবেচনা করার জন্য কাজ করছে সরকার।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো: মজিবর রহমান (রুটিন দায়িত্ব)। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. জসীম উদ্দিন আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সাবেক সভাপতি নাসরিন বেগম।
সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (মাধ্যমিক) ও বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের আহবায়ক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। সেমিনারে প্রবন্ধ পাঠ করেন বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব ড. মো: মাসুদ মনুরানা খান।
প্রবন্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের ভূমিকা ও ভাবনা তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, প্রায় দেড় হাজারের বেশি ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ এবং লাখের বেশি আহতের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী আওয়ামী শাসন অবসানের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে সেই স্বপ্ন পূরণে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রবন্ধে আরো বলা হয় যে, বাংলাদেশের শিক্ষা ও শিক্ষক গণঅভ্যুত্থানের পর যথাযথ মনোযোগ পায়নি। শিক্ষকরা এখনো নিজেদের বৈষম্যের শিকার। যিনি দেশের সাধারণ মানুষকে মানবসম্পদে পরিণত করে তোলেন তিনি চতুর্থ গ্রেডের পর আর কোনো পদন্নোতি পান না। এমনকি কারিগরি শিক্ষা ও মেডিক্যাল শিক্ষায় অধ্যাপকরা পদ তৃতীয় গ্রেডের হলেও শিক্ষা ক্যাডারের অধ্যাপকরা পদ চতুর্থ গ্রেডের হন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহা-পরিচালকের পদ এক নম্বর গ্রেড হলেও সেখানে যাওয়ার কোনো পদ সোপান নেই। দীর্ঘদিন যাবৎ পদন্নোতি পান না শিক্ষা ক্যাডারে এমন কর্মকর্তার সংখ্যা প্রচুর। প্রভাষকরা ১২ থেকে ১৩ বছর যাবৎ পদন্নোতি পান না যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মানের স্পিরিটের সাথে বেমানান। সেমিনার শেষে সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মাউশির উপ-পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মো: শাহজাহান।



