পোস্টাল ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন ১৫,৩৩,৬৮২ জন

‘পোস্টাল ব্যালটের অনলাইন নিবন্ধন সোমবার শেষ হয়েছে এবং প্রথমবার চালু হওয়া এ ব্যবস্থায় প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাড়া পাওয়া গেছে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিং করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিং করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম |বাসস

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে। অনলাইনে শেষ হওয়া নিবন্ধনে দেশে ও দেশের বাইরে মিলিয়ে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন ভোটার পোস্টাল ভোট দেয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। প্রথমবারের মতো চালু হওয়া এ ব্যবস্থাকে নির্বাচন ব্যবস্থায় একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে সরকার।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালটের অনলাইন নিবন্ধন সোমবার শেষ হয়েছে এবং প্রথমবার চালু হওয়া এ ব্যবস্থায় প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাড়া পাওয়া গেছে।

প্রেস সচিব নির্বাচন কমিশনের বরাত দিয়ে জানান, নিবন্ধনকারীদের মধ্যে দেশের ভেতরে রয়েছেন সাত লাখ ৬১ হাজার ১৪০ জন। তারা মূলত নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন অথবা ভোটের দিন নিজ নিজ এলাকায় উপস্থিত থাকতে পারবেন না–এমন ভোটার। আর বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ভোটার রয়েছেন সাত লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন।

শফিকুল আলম বলেন, এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, প্রবাসী ভোটারদের ক্ষেত্রে গড় অংশগ্রহণের হার প্রায় দু’ দশমিক সাত শতাংশ। সেখানে বাংলাদেশ প্রথম বছরেই পাঁচ শতাংশের বেশি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পেরেছে, যা নির্বাচন কমিশন ও সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের এই পোস্টাল ব্যালট মডেলটি আন্তর্জাতিক পরিসরেও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউএনডিপি ছাড়াও ইউরোপের একাধিক দেশ এ ব্যবস্থা কীভাবে কার্যকর করা হয়েছে, তা পর্যবেক্ষণ করছে। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা ও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও প্রধান উপদেষ্টার সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশের এই মডেলের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। প্রবাসী জনসংখ্যা বেশি— এমন দেশগুলো বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে আগ্রহী বলে জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার পর থেকে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেয়া শুরু হবে।

প্রেস সচিব বলেন, এবারের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে প্রবাসী ভোট আরো বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন হিসাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের প্রবাসী জনসংখ্যা দেড় কোটির কাছাকাছি। তাদের সবাইকে ভোটের আওতায় আনাই সরকারের লক্ষ্য।

শফিকুল আলম আরো বলেন, দেশের অর্থনীতি যে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল, সেই প্রবাসী নাগরিকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অতীতে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেয়া হয়নি। প্রথমবারের মতো সেই ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দায়িত্ব নেয়ার প্রথম দিন থেকেই প্রধান উপদেষ্টা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বাসস