প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’ বার্তার মাধ্যমে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আস্থাশীল ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
তিনি বলেন, ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম আয়োজিত সামার দাভোস-২০২৬ বর্তমানে চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ সম্মেলনের এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের সরকারি প্রতিনিধিদল, রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, শীর্ষ ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি উদ্ভাবক, শিক্ষাবিদ এবং করপোরেট নেতারা অংশ নিচ্ছেন।’
মঙ্গলবার (২৩ জুন) চীনের দালিয়ানে শাংগ্রি-লা হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।
সরকারপ্রধান হিসেবে বাংলাদেশের বাইরে এই প্রথম কোনো বৈশ্বিক সম্মেলনে যোগদান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, এ সম্মেলনে অংশগ্রহণের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশে অধিকতর বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের সাথে আরো গভীরভাবে সংযুক্ত করা। একইসাথে ‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’ বার্তার মাধ্যমে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আস্থাশীল ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এর আগে, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
এ প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, ‘বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকার কীভাবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে পারে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে, দেশের মানুষকে অগ্রযাত্রার পথে ধাবিত করতে পারে, সেগুলো নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। এ সময় সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির প্রশংসা করা হয়েছে।’
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন আ শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ সেশনে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রেখেছেন জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় নির্বাচিত সরকারের গৃহীত কর্মসূচিগুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং প্রশংসিত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এ সেশনে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং তিনি এসব কর্মসূচি বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন করেন।
তিনি জানান, সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন-পুনঃখনন, পদ্মা ও তিস্তা অববাহিকার পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, সবুজ শিল্পের বিকাশে পাট শিল্প ও পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক ভেহিকেল চালু এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যের কথা তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেছেন, ‘জলবায়ু কার্যক্রম কোনো ব্যয় নয়; এটি আমাদের সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অপরিহার্য বিনিয়োগ।’
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী একইসাথে ক্ষয়ক্ষতি তহবিলের কার্যকর বাস্তবায়ন, সহজলভ্য ও পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ এবং প্রশমন ও অভিযোজন কার্যক্রমে সমান গুরুত্ব দেয়ার ওপর জোর দেন। তিনি জলবায়ু সঙ্কট মোকাবেলায় বৈশ্বিক সংহতি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও যৌথ দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।
আগামীকাল বুধবার সকালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’ অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে অন্যান্য বৈশ্বিক নেতাদের সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক পলিসি নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী দেশে যেভাবে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও একটি মর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্রের সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে গৃহীত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে এমন একজন স্টেটসম্যান প্রতিনিধিত্ব করছেন, যিনি সমতা, ন্যায্যতা ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে প্রতিটি দেশের সাথে বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে কার্যকরভাবে ধারণ করছেন; একইসাথে নিশ্চিত করছেন বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা, সম্মান ও দৃঢ় অবস্থান।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য একদিকে যেমন নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে বিভিন্ন দেশের শ্রেষ্ঠ অভিজ্ঞতা ও কার্যকর কৌশল (বেস্ট প্র্যাকটিস) গ্রহণের মাধ্যমে আমাদের জাতীয় সক্ষমতাকে আরো সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি। বাসস



