মানিলন্ডারিং মামলায় গাইবান্ধার রাম মূর্তি নির্মাতা হরি দাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার (১৩ জুলাই) ভোরে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে গাইবান্ধার রাম মূর্তি নির্মাতা হরি দাসকে গ্রেফতার করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, অর্থ পাচারের অভিযোগে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস ওরফে তৌহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) এর ৪(২) ধারায় মামলা করেছে পুলিশের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট (এফসিইউ), সিআইডি।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী থানার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের শ্রী গোপীনাথ তরনীদাসের ছেলে। তিনি ২০০৬ সালে হাসবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০০৮ সালে ঢাকা ক্যাম্ব্রিয়ান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ২০১০ সালে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে দেশে ফেরেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।
সিআইডি জানিয়েছে, ২০১৯ সালে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার হিসেবে পরিচয় দিতেন। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সাথে নিজের সম্পাদিত (এডিট করা) ছবি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে সংরক্ষিত (সেভ করা) ভুয়া ফোনকল প্রদর্শন করতেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
সরকারি চাকরি পাইয়ে দেয়া, বদলি, হুন্ডি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগের ভিত্তিতে সিআইডি প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে।
অনুসন্ধানে সংস্থাটি জানতে পারে, বৈধ আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তের বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস হিসাবে প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জমা হয়েছে এবং প্রায় সমপরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে, যা সন্দেহজনক বলে মনে করছে তদন্ত সংস্থা।
সিআইডির দাবি, তার ব্যাংক হিসাবগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা করেছেন, যা তার পেশার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এছাড়া অনুসন্ধানকালে বনানী থানায় ২০২২ সালে দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় একটি মামলার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেশী-বিদেশী মুদ্রা পাচার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের তথ্য পাওয়ার পর উত্তরা পশ্চিম থানায় তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।



