টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে ক্রমবর্ধমান অর্থায়ন ঘাটতি কমাতে এবং একটি ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জরুরি বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একইসাথে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে টেকসই ও মসৃণ উত্তরণ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতিকাল বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছে ঢাকা।
নিউইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সদরদফতরে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জাতিসঙ্ঘ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের ‘ফাইন্যান্সিং ফর ডেভেলপমেন্ট ফোরাম ২০২৬’-এর সাধারণ বিতর্কে বক্তব্যকালে জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এ আহ্বান জানান বলে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ভূরাজনৈতিক সঙ্ঘাত, সরকারি উন্নয়ন সহায়তা হ্রাস, জলবায়ুজনিত ধাক্কা, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা এবং জ্বালানি অনিশ্চয়তা উন্নয়নশীল দেশগুলোর নীতিগত পরিসর সংকুচিত করছে।
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এতে করে দেশটি টেকসই ও মসৃণ রূপান্তর নিশ্চিত করতে পারবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের অগ্রগতিও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, ব্যবসায়িক আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ব্যাংকিং খাত শক্তিশালী করা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সরাসরি সহায়তা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে।
ঋণ পরিশোধ ব্যয় কমানো এবং অকার্যকর অবকাঠামোভিত্তিক ঋণ এড়িয়ে চলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগকে উৎপাদনশীল ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাতে পরিচালিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তরেরও আহ্বান জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী আরো বলেন, বিশ্বব্যাপী আরো প্রতিনিধিত্বশীল আর্থিক ব্যবস্থা, জলবায়ু ন্যায়বিচার, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ এবং পাচার হওয়া সম্পদ প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। বাসস



