আগামী ৯ এপ্রিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ নির্বাচনী এলাকার শূন্য আসনের ও শেরপুর-৩ নির্বাচনী এলাকার উপ-নির্বাচনে নিরাপত্তাজনিত কোনো ধরনের শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেছেন, আশঙ্কা না থাকলেও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য কমিশন সজাগ ও সচেতন রয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর প্রতিনিধিদের সাথে নিয়মিত সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদসহ আরো উপস্থিত ছিলেন সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানদের প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।
ইসি সচিব বলেন, ‘সবার কাছ থেকে আমরা যেসব তথ্য পেয়েছি, তাতে এখন পর্যন্ত শঙ্কার কিছু নেই। একটা ভালো নির্বাচনের পর সবাই এই দু’টি আসনের নির্বাচন আরো ভালো হোক- এটাই প্রত্যাশা করে। কাজেই আমাদের সেদিক থেকে কোনো সমস্যা এখন পর্যন্ত নেই। তবে ভবিষ্যতেও যেন কিছু না হয়, সে বিষয়ে আমরা সজাগ আছি এবং থাকব।’
তিনি বলেন, ‘আমরা জাতীয় নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী মোতায়েন করার যে প্ল্যান ছিল তার আওতায় আমরা সব কাজ এগিয়ে নিচ্ছি, শুধুমাত্র যেখানে ব্যতিক্রমটা এবার করা হবে সেটি হলো- বাড়তি রিসোর্সের সমন্বয়। বডি ওর্ন ক্যামেরা এবং সুরক্ষা অ্যাপের সম্মেলন আরেকটু বাড়ানো হবে। প্রত্যেকটা কেন্দ্রে একাধিক বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। তবে এটা নির্ভর করছে রিটার্নিং অফিসার বা ওখানকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের প্রয়োজন অনুযায়ী। যদি প্রয়োজন মনে করেন তারা তাহলে এটা বাড়বে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কেন্দ্রভিত্তিক ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণের ব্যবস্থাটা রাখব, যাতে ভবিষ্যতে যদি আমাদের কোনো দিক থেকে কোনো চিন্তাভাবনা করতে হয় বা পর্যালোচনা করতে হয়, সেটার জন্য যেন কমিশন ব্যবস্থা নিতে পারে।’
ইসি সচিব বলেন, আনসার বাহিনী এবারো আট দিনের জন্যে মাঠে থাকবেন। আর বিজিবি এবং অন্যান্য সেনাবাহিনী সবাই তারা তাদের যে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নিজ নিজ দায়িত্বে থাকবেন। সেই সাথে, মাঠে আমাদের ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত আমরা কোনো রকমের কোনো খারাপ বা আপত্তিকর তথ্য পাইনি। এমনকি মনোনয়নপত্রের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত এই দুই আসনে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে আমরা কোনো আপিল পাইনি। তার মানে বৈধতার বিষয়টা যেটা এখন প্রত্যাহারের পরে আমরা বলতে পারব যে কোন কোন আসনে কয়জন প্রার্থী হলেন।
ইসি সচিব জানান, এই দুই আসনের প্রবাসী ভোটারদের ব্যালট আগামীকাল থেকে পাঠানো শুরু হবে এবং দেশের অভ্যন্তরের পোস্টাল ব্যালট আগামী ২৩-২৪ তারিখ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।
ভোট গণনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবার যেহেতু দুই আসনে কেন্দ্র ১৫০ ও ২৮টি বা ১৭৮টি কাজেই আমার মনে হয় না যে ফলাফল প্রকাশে খুব বেশি একটা দেরি হবে। যেহেতু এবার এ দুই আসনে গণভোটের বিষয়টা নেই। কিন্তু পোস্টাল ভোটের বিষয়টা আছে, যত তাড়াতাড়ি আমরা পোস্টাল ব্যালটের ভোট গণনা নিশ্চিত করতে পারব ফলও তাড়াতাড়ি দিয়ে দিতে পারব।



