ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে আনসার বাহিনীর এক হাজার ১৯১টি স্ট্রাইকিং টিম।
সারাদেশের মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে জরুরি মুহূর্তে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সশস্ত্র টিম স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োজিত রয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপ-পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো: আশিকউজ্জামান স্বাক্ষরিত এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া।
এ প্রক্রিয়াকে শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সম্পন্ন করতে দেশব্যাপী সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরবচ্ছিন্ন ও সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রত্যন্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তাকে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।
এর আওতায় দেশের প্রতিটি উপজেলায় দু’টি করে এবং প্রতিটি জেলায় একটি করে আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং টিম মোতায়েন করা হয়েছে। এসব টিমের কার্যক্রম আনসার ভিডিপি জেলা কার্যালয়, রেঞ্জ কার্যালয় এবং সদর দফতরের কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিকভাবে নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে বিশ্বাসযোগ্য, গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।
এ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ‘নির্বাচনী সুরক্ষা অ্যাপ’-এ প্রতিটি আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং টিমের একজন করে সদস্য রেসপন্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যা দ্রুত প্রতিক্রিয়া, তথ্য আদান-প্রদান এবং কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচনী দায়িত্বের তিনটি ধাপ-নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে-আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং টিমের সদস্যরা মাঠে সক্রিয় থাকবেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা, বিশৃঙ্খলা কিংবা অপশক্তির অপচেষ্টা প্রতিহত করতে তারা সর্বদা প্রস্তুত থাকবে।
সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং টিম জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র্যাব এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে।
সার্বিকভাবে, সুপরিকল্পিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি এবং বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হওয়ার একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়েছে। মাঠপর্যায়ে আনসার বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি শুধু নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নয়, বরং জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপন, ভোটার অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরো সুদৃঢ় ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাসস



