পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম অনারারি কনসালদের বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনার শক্তিশালী দূত হিসেবে কাজ করার এবং বাণিজ্য ও ব্যবসার নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখার আহবান জানিয়েছেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে কনস্যুলার কর্পস ইন বাংলাদেশ (সিসিবি)’র নির্বাহী কমিটি তার সম্মানে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ আহবান জানান। এ সময় তিনি সিসিবি’র সদস্যদের কাছে পাঁচটি প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘প্রযুক্তি, শিক্ষা, উদ্ভাবন ও দক্ষ কর্মসংস্থানে অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিন। বিশেষ করে আফ্রিকাসহ উদীয়মান অঞ্চলের সাথে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা সম্প্রসারণে সহায়তা করুন, জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ক জোরদার করুন ও বিশ্ববাসীর কাছে প্রকৃত বাংলাদেশকে তুলে ধরুন।’
তিনি আরো বলেন, সরকার অনারারি কনসালদের বন্ধুত্ব ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে মূল্যায়ন করে। তাদের ভূমিকা কেবল আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনাদের ভূমিকা কখনোই শুধু আনুষ্ঠানিক হিসেবে দেখা উচিত নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনারারি কনসালরা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সাংস্কৃতিক বিনিময়, শিক্ষা ও মানবিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
শামা ওবায়েদ আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য আপনাদের অবদান বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে।’
তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিসিবি’র সাথে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় সাধনে সর্বদা প্রস্তুত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতির উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও জনগণের কল্যাণই সরকারের আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার মূল ভিত্তি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ অধিক বিদেশী বিনিয়োগ, রফতানি বাজার সম্প্রসারণ, উন্নত প্রযুক্তি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব, পর্যটন বৃদ্ধি ও জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করে।
এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের অনারারি কনসালরা এসব লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। আপনারা আগেভাগেই সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করতে, উপযুক্ত অংশীদারদের সংযুক্ত করতে ও ধারণাগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বে রূপ দিতে সহায়তা করতে পারেন।’
বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ শুধু একটি বৃহৎ ভোক্তা বাজারই নয়। দেশের তরুণ ও পরিশ্রমী জনশক্তি, গতিশীল উদ্যোক্তা ও সম্প্রসারণশীল উৎপাদন খাতের পাশাপাশি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে কৌশলগত অবস্থান দেশটিকে বিনিয়োগ, উৎপাদন, সরবরাহ ব্যবস্থা (লজিস্টিকস) ও আঞ্চলিক সংযোগের জন্য একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের অংশীদারিত্ব পারস্পরিকভাবে লাভজনক হতে হবে। আমরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও দক্ষতাকে স্বাগত জানাই। একইসাথে বাংলাদেশী ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও উদ্ভাবকদেরও বৈশ্বিক বাজারে অবদান রাখতে উৎসাহিত করছি।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সিসিবি’র নতুন পরিচালনা পর্ষদ বাস্তবধর্মী সহযোগিতা, আরো শক্তিশালী অংশীদারিত্ব এবং দৃশ্যমান সাফল্যের নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, কূটনৈতিক মিশনের প্রধান, সম্মানসূচক কনসাল, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সিসিবি’র সভাপতি ও মঙ্গোলিয়ার অনারারি কনসাল জেনারেল নাসরীন ফাতেমা আওয়াল কূটনৈতিক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরো জোরদারে সংগঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এছাড়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সিসিবি’র সহ-সভাপতি শাহাব সাত্তার ও শাখাওয়াত হোসেন, মহাসচিব কাজী শাহ মুজাক্কের আহমদুল হক ইশমাম ও কোষাধ্যক্ষ মাসুদ জামিল খান। সূত্র : বাসস



