বাংলাদেশে বজ্রপাত এখন আর শুধু মৌসুমি প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, ক্রমেই তা বড় জননিরাপত্তা সংকটে রূপ নিচ্ছে। গত ১ যুগে দেশে বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন তিন হাজার ৮৬০ জন।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের হাওরাঞ্চল। বিস্তীর্ণ খোলা প্রান্তর, মৌসুমি কৃষিকাজ, জলাভূমিনির্ভর জীবিকা, উন্মুক্ত পরিবেশে দীর্ঘ সময় অবস্থান এবং পর্যাপ্ত নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার এখন বজ্রপাতের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের (ডিডিএম) তথ্য ও বৈশ্বিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে বছরে গড়ে ৮২ দশমিক ৪৪টি বজ্রপাত ঘটে। বিশ্বের কিছু দেশে বজ্রপাতের ঘনত্ব আরো বেশি হলেও উন্নত অবকাঠামো, কার্যকর আগাম সতর্কতা ও নিরাপদ আশ্রয়ব্যবস্থার কারণে প্রাণহানি তুলনামূলক কম।
সংশ্লিষ্ট গবেষণা বলছে, দক্ষিণ এশিয়ায় মোট মৃত্যুর সংখ্যায় বড় আয়তনের দেশ ভারত এগিয়ে থাকলেও আয়তনের তুলনায় বজ্রপাতজনিত মৃত্যুঝুঁকিতে বাংলাদেশ উদ্বেগজনক অবস্থানে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবসের তাৎপর্য
আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো বজ্রপাতের ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা এবং নিরাপদ আচরণ সম্পর্কে শিক্ষা দেয়া। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের অনেক অঞ্চলে বজ্রঝড়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বজ্রপাতজনিত দুর্ঘটনাও বাড়ছে। এই বাস্তবতায় দিবসটি মানুষের মাঝে সতর্কতা ও প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরে।
বজ্রপাত কী এবং কেনো ঘটে?
বজ্রপাত হলো মেঘ ও মেঘের মধ্যে অথবা মেঘ ও ভূমির মধ্যে সঞ্চিত বৈদ্যুতিক চার্জের হঠাৎ নির্গমন। বজ্রঝড়ের সময় মেঘে বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক শক্তি জমা হয়। যখন এই শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখন বিদ্যুতের তীব্র ঝলকানি সৃষ্টি হয়, যাকে বজ্রপাত বলা হয়। একটি বজ্রপাতের তাপমাত্রা সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রার চেয়েও বেশি হতে পারে। তাই বজ্রপাত মানুষের জীবন, গবাদিপশু, ঘরবাড়ি ও বৈদ্যুতিক অবকাঠামোর জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
বজ্রপাতের সময় করণীয়
দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যান : বজ্রপাত শুরু হলে যত দ্রুত সম্ভব পাকা ভবন বা নিরাপদ ঘরের ভেতরে আশ্রয় নিতে হবে। খোলা মাঠ, নদী, জলাশয় কিংবা উঁচু স্থানে অবস্থান করা বিপজ্জনক।
গাছের নিচে আশ্রয় নেবেন না : অনেকেই বৃষ্টির সময় বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বজ্রপাত সাধারণত উঁচু বস্তুতে আঘাত হানে, ফলে গাছের নিচে অবস্থান প্রাণঘাতী হতে পারে।
বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার এড়িয়ে চলুন : বজ্রঝড়ের সময় টেলিভিশন, কম্পিউটার, ফ্রিজ বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করাই ভালো। সম্ভব হলে প্লাগ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখতে হবে।
মোবাইল ফোন ব্যবহারে সতর্ক থাকুন : ঘরের বাইরে অবস্থান করে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। নিরাপদ স্থানে থাকলে সাধারণ মোবাইল ব্যবহার তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হলেও অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার এড়ানো উচিত।
ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকুন : লোহার খুঁটি, তারের বেড়া, মোটরসাইকেল, সাইকেল বা অন্য কোনো ধাতব বস্তু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে কৃষক, জেলে, নির্মাণশ্রমিক এবং খোলা আকাশের নিচে কাজ করা মানুষেরা বজ্রপাতের ঝুঁকিতে বেশি থাকেন। তাদের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জলাশয় থেকে দূরে থাকুন : নদী, পুকুর, হ্রদ কিংবা সুইমিং পুলে অবস্থান করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। বজ্রপাতের সময় দ্রুত পানি থেকে উঠে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে।
খোলা মাঠে থাকলে বিশেষ ভঙ্গি গ্রহণ করুন : যদি কোনো কারণে নিরাপদ আশ্রয় না পাওয়া যায়, তাহলে দুই পা একসাথে রেখে নিচু হয়ে বসতে হবে এবং মাথা নিচু রাখতে হবে। মাটিতে পুরো শরীর শুইয়ে দেয়া উচিত নয়।
বজ্রপাতের সময় যা করা উচিত নয়
খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা।
উঁচু গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে আশ্রয় নেয়া।
নৌকা বা জলযানে অবস্থান করা।
ধাতব ছাতা ব্যবহার করা।
বজ্রঝড় চলাকালে ছাদে বা খোলা বারান্দায় অবস্থান করা।
বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত টেলিফোন ব্যবহার করা।
সচেতনতা বৃদ্ধিতে করণীয়
বিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু করা।
গণমাধ্যমে নিরাপত্তাবিষয়ক প্রচারণা বৃদ্ধি করা।
কৃষক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
আবহাওয়া সতর্কবার্তা নিয়মিত অনুসরণ করা।
স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচি জোরদার করা।
বছরভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ২২৬ জন, ২০১৬ সালে ৩৯১ জন, ২০১৭ সালে ৩৮৮ জন, ২০১৮ সালে ৩৫৯ জন, ২০১৯ সালে ৪০১ জন, ২০২০ সালে ৪২৭ জন, ২০২১ সালে ৩৬৩ জন, ২০২২ সালে ৩৩৭ জন, ২০২৩ সালে ৩২২ জন, ২০২৪ সালে ২৭১ জন, ২০২৫ সালে ২৪৩ জন এবং ২০২৬ সালের ১৪ জুন পর্যন্ত ১৩২ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
উপাত্ত পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সাম্প্রতিক কয়েক বছরে মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমতির দিকে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বজ্রপাতের তীব্রতা ও প্রবণতা কমছে নাকি বাড়ছে—এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এখনো গবেষণা ও আলোচনা চলছে। যদিও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমলেও মাঠপর্যায়ের ঝুঁকি এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে রয়ে গেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের গভীর অভিঘাত : মার্চ–মে সবচেয়ে প্রাণঘাতী, বর্ষায় বাড়ছে প্রবণতা
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘দেশে বজ্রপাত সারা বছরই কমবেশি হয়। তবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে মোট বজ্রপাতের প্রায় ৩৮ শতাংশ এই সময়ে ঘটে। অন্যদিকে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ঘটে প্রায় ৫১ শতাংশ বজ্রপাত। অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে এ হার প্রায় আট শতাংশ এবং ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারিতে প্রায় দুই-তিন শতাংশ।’
তিনি বলেন, ‘সংখ্যায় কম হলেও মার্চ থেকে মে সময়ের বজ্রপাত তুলনামূলক বেশি শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী হয়ে থাকে।’
তবে আবহাওয়াবিদদের নতুন উদ্বেগের জায়গা হয়ে উঠেছে জলবায়ু পরিবর্তন। আবহাওয়া অধিদফতরের জলবায়ু মহাশাখার উপপরিচালক ড. রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘আগে বজ্রপাতের প্রকোপ মূলত প্রাক-বর্ষা মৌসুমে বেশি থাকলেও ২০১৬ সালের পর থেকে বর্ষা মৌসুমেও বজ্রপাতের প্রবণতা ও এর প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বঙ্গোপসাগর থেকে আসা গরম ও আর্দ্র বায়ু এবং উত্তর দিকের অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা বায়ুর পারস্পরিক ক্রিয়ায় বড় আকারের বজ্রমেঘ তৈরি হয়। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বাতাসে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি বাড়ায় এই প্রক্রিয়ার তীব্রতাও বাড়তে পারে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।’
ড. রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘দেশে প্রতি বছর গড়ে ৩০০–এর বেশি মানুষ বজ্রপাতে মারা যান। ঘূর্ণিঝড়সহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি বজ্রপাতও এখন বড় জননিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাই আগাম সতর্কবার্তা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি আচরণগত সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্টরা।’
অনেক জায়গায় অকার্যকর কোটি টাকার বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাওর অঞ্চলে বজ্রপাতে মৃত্যুর অন্যতম কারণ সেখানকার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য। বিশাল খোলা মাঠ এবং দিগন্ত বিস্তৃত এলাকায় বড় গাছপালা বা নিরাপদ স্থাপনা কম থাকায় খোলা পরিবেশে কাজ করা মানুষ তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। এই ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন সময়ে মাঠপর্যায়ে বজ্রনিরোধক দণ্ড বা লাইটনিং অ্যারেস্টার স্থাপন করা হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি ও কারিগরি ত্রুটির কারণে অনেক স্থানে এসব ব্যবস্থা প্রত্যাশিত সুরক্ষা দিতে পারছে না
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অতীতে স্থাপন করা কিছু বজ্রনিরোধক দণ্ড কারিগরি সীমাবদ্ধতা, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি অথবা অবস্থানগত কারণে কার্যকর নেই। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সরকার এখন হাওর ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে ‘কৃষক ছাউনি কাম লাইটনিং অ্যারেস্টার’ নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, এটি মূলত একটি পাকা বা অর্ধ-পাকা আশ্রয়স্থল, যার সাথে বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা থাকবে, যাতে খোলা মাঠে কাজ করা কৃষকেরা ঝড়-বৃষ্টি বা বজ্রপাতের সময় দ্রুত সেখানে আশ্রয় নিতে পারেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের পরিবীক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের পরিচালক নিতাই চন্দ্র দে সরকার বলেন, ‘নতুন করে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৫ জেলায় প্রায় ছয় হাজার ৭০০ বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা এবং প্রায় তিন হাজার ৫০০ নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, একটি বজ্রনিরোধক দণ্ডের কার্যকারিতা সীমিত এলাকায় কাজ করে। তাই শুধু এ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’
এক–চার ঘণ্টা আগে মিলছে আগাম পূর্বাভাস, পৌঁছাচ্ছে না মাঠে
বর্তমানে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর এবং রিজিওনাল ইন্টিগ্রেটেড মাল্টি-হ্যাজার্ড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম (রাইমস) প্রযুক্তিগত সহায়তায় স্যাটেলাইট ও সেন্সরভিত্তিক তথ্য ব্যবহার করে কয়েক ঘণ্টা আগেই বজ্রপাতের পূর্বাভাস দিতে পারছে।
রাইমসের বিশেষজ্ঞ গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘পরীক্ষামূলকভাবে এক থেকে চার ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সরকারি প্ল্যাটফর্মে সতর্কবার্তা দেয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জাপানের হিমায়ারি–৯ স্যাটেলাইটের তথ্যও ব্যবহার করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখনো এই পূর্বাভাস সময়মতো প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া। কারণ হাওরাঞ্চলের কৃষক বা জেলেদের অনেকের কাছেই নিয়মিত স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট সুবিধা থাকে না।’
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক মো: মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এখন এক থেকে চার ঘণ্টা আগেই পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব হলেও সেটি মানুষের কাছে না পৌঁছালে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাবে না।’
এমন অবস্থায়, দেশের বড় জনগোষ্ঠীর কাছে দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে গণমাধ্যম ও সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বজ্রপাত নিয়ে সমাজে এখনো প্রচলিত রয়েছে নানা কুসংস্কার
বজ্রপাতকে ঘিরে দেশে এখনো নানা ভুল ধারণা ও কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানির ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।
রিজিওনাল ইন্টিগ্রেটেড মাল্টি-হ্যাজার্ড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের (রাইমস) বিশেষজ্ঞ গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘সমাজ ও প্রযুক্তির অগ্রগতির পরও বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে বজ্রপাত নিয়ে বহু ভুল ধারণা রয়ে গেছে। অনেকেই মনে করেন মোবাইল ফোন বা হাতঘড়ি বজ্রপাত আকর্ষণ করে, কিন্তু এ ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। একইভাবে রাবারের জুতা বা প্লাস্টিকের হাতলযুক্ত ছাতা বজ্রপাত থেকে বিশেষ নিরাপত্তা দেয়—এমন ধারণাও সঠিক নয়।’
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক ভুল ধারণাগুলোর একটি হলো— বজ্রপাতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্পর্শ করলে নিজেও আক্রান্ত হতে পারে। এ কারণে অনেক সময় আশপাশের মানুষ আহত ব্যক্তিকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন না। অথচ আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে বিদ্যুৎ জমা থাকে না। দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজন হলে সিপিআর (কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস ও বুকে চাপ প্রয়োগ) দিলে অনেক ক্ষেত্রে জীবন বাঁচানো সম্ভব।’
তার মতে, ‘বজ্রপাত থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায় এখনো আচরণগত সতর্কতা। বজ্রধ্বনি শোনামাত্রই খোলা জায়গা ছেড়ে দ্রুত পাকা দালান বা নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে। নিরাপদ স্থানে যাওয়ার পর বজ্রপাতের একাধিক শব্দের মধ্যে সর্বশেষ যেই শব্দটি শোনা যায় সেটি খেয়াল করে অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে আবার বজ্রধ্বনি শোনা গেলে শেষবারের শব্দ শোনার পর থেকে নতুন করে সময় গণনা করতে হবে।’



