‘আগামীর বাংলাদেশে নারীরাই হবে মূল শক্তি’ বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
তিনি বলেন, ‘নারীরা যোগ্যতা, কমিটমেন্ট ও আন্তরিকতার দিক থেকে এগিয়ে; তাই আগামীর বাংলাদেশে নারীরাই হবে মূল শক্তি।’
শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিকেলে ফার্মগেটস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে জুলাই কন্যা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘জুলাই কন্যা অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
আগামীর বাংলাদেশ গঠনে প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ফরিদা আখতার।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, ‘নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে থেকে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি কিভাবে জুলাই কন্যাদের সামনে নিয়ে আসা যায়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, জাতীয় পর্যায়ের বড় বড় অনুষ্ঠানে তাদের যথাযথ জায়গা দেয়া হয় না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো দেখি শহীদদের মা জাতীয় সঙ্গীত শুনতে শুনতে অশ্রুসিক্ত হন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারী যোদ্ধাদের সংখ্যা কম হলেও তাদের অবদান অবিস্মরণীয়। প্রতিটি আন্দোলনের পেছনে মায়েদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।’
উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৭১’র মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সব আন্দোলনেই নারীরা সামনের সারিতে ছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতার পর বা আন্দোলন শেষে নারীদের স্থান প্রান্তিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ করে দেয়ার প্রবণতা ছিল, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘দেশের ৫১ শতাংশ নারীকে আর পেছনে রাখা যাবে না। অধিকার কেউ দিয়ে যায় না, তা আদায় করে নিতে হয়। জুলাই কন্যা ফাউন্ডেশনের মূল কাজ হওয়া উচিত যেখানেই থাকুক, নারীদের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করা।’
জুলাই কন্যা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জন্নাতুল নাঈম প্রমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন শহীদ আবরার ফাহাদের মা, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান টুম্পা, শহীদ নাঈমা সুলতানার মা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা আইমান।
অনুষ্ঠানে ১০০ নির্বাচিত নারীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জুলাই কন্যা অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পাশাপাশি তাদের জীবন ও কর্মভিত্তিক সাফল্যের গল্প তুলে ধরা হয়, যাতে অন্য নারীরা অনুপ্রাণিত হতে পারেন। বাসস



