বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমানের প্রস্তাবে সময় বাঁচলো জাতীয় সংসদের। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আগামী অর্থবছরের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মঞ্জুর করা নিয়ে বিরোধী দলের দেয়া সবগুলো ছাঁটাই প্রস্তাব কণ্ঠভোটে বাদ হয়ে যাওয়ায় তিনি বাকিগুলোও একবারে প্যাকেজ আকারে প্রত্যাহার করে নেয়ায় এ সময় সাশ্রয় হয়। এ ঘটনায় স্পিকার বিরোধীদলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বেলা ১১টা থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আগামী অর্থবছরের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মঞ্জুর করা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। মোট ৫৯টি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা তালিকায় রাখা হয়। ৩৩টি পর্যন্ত ছাঁটাই প্রস্তাবের বেশিরভাগ প্রস্তাবের ওপর বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা বক্তব্য রাখেন।
তবে তাদের সবগুলো প্রস্তাবই কণ্ঠভোটে বাতিল হয়ে যায়। মন্ত্রীদের মঞ্জুরের প্রস্তাবগুলোই বহাল থাকে। এজন্য দুপুরের বিরতির পর আড়াইটায় আবার ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হলে কয়েকটি আলোচনার পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, আমরা বিরোধী দলের পক্ষ থেকে মূলত প্রস্তাবগুলো দিয়েছি। সাধারণত এটি একটি রেওয়াজ। রেওয়াজের প্রতি সম্মান রেখে বলছি- যেহেতু আমাদের আলোচনা গ্রহণ হওয়ার সম্ভাবনা নাই সেই কারণে আমরা মূল্যবান সময়টা বাঁচাইতে পারি কিনা। আমাদের সুযোগ আছে কিনা যে আমাদের দেয়া এই ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো আমরা প্যাকেজ আকারে প্রত্যাহার করে নিলাম। তাহলে মনে হয় আমাদের কাজটা সহজ হয়।
তার এ বক্তব্যের পর সরকারি ও বেসরকারি দলের সব সংসদ সদস্য টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান।
এ সময় সংসদে সভাপতিত্ব করছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ধন্যবাদ বিরোধীদলীয় নেতা। আমার মনে হয় আপনার প্রস্তাব সরকারি দলের সব সদস্য মেনে নিয়েছেন। আপনার প্রস্তাবের কারণে অনেক সময় বেঁচে যাবে।
এরপর স্পিকার সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলেন, আমার মনে হয়, প্রস্তাবগুলো মন্ত্রীরা উত্থাপন করবেন। এরপর সরাসরি প্রস্তাবটি ভোটে দেয়া হবে। স্পিকার আবারো বিরোধী দলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এতে অনেক সময় বাঁচবে এবং আমার স্বাক্ষরের জন্য দ্রুত রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাতে পারবো। এরপর খুব দ্রুতই কোনো আলোচনা ছাড়াই শুধুমাত্র ‘হাঁ-না’ ভোটের মাধ্যমে মন্ত্রীদের আগামী অর্থবছরের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মঞ্জুর হয়ে যায়।



