ডিএনসিসি প্রশাসক

জনসেবার প্রমাণ থাকলেই কাউন্সিলর পদে সুপারিশ করা হবে

‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কেবল পদ-পদবি বিবেচনা করে কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন দেবেন না। জনগণের কাছে যেতে হবে, তাদের আস্থা অর্জন করতে হবে এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের বাস্তব প্রমাণ দেখাতে হবে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বক্তব্য দেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো: শফিকুল ইসলাম খান
বক্তব্য দেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো: শফিকুল ইসলাম খান |সংগৃহীত

আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যেসব নেতা নিজ নিজ এলাকায় জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারবেন, তাদেরই কাউন্সিলর পদে সুপারিশ করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো: শফিকুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কেবল পদ-পদবি বিবেচনা করে কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন দেবেন না। জনগণের কাছে যেতে হবে, তাদের আস্থা অর্জন করতে হবে এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের বাস্তব প্রমাণ দেখাতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ডিএনসিসির অঞ্চল-১-এর আওতাধীন উত্তরা এলাকায় সুধীজনের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রশাসক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জনগণের সরকার পরিচালনা করছেন। তাই জনগণের সেবাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। নগরীর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

মো: শফিকুল ইসলাম খান বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর জনগণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন এবং তার নেতৃত্ব অনুসরণ করে ডিএনসিসিও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

নগরীর পানি সঙ্কট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকার কয়েকটি এলাকায় তীব্র পানি সঙ্কট ছিল। ঢাকা ওয়াসার সহযোগিতায় বিভিন্ন স্থানে পানির পাম্প স্থাপনের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধানে ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের বিষয়ে প্রশাসক বলেন, বর্তমানে মশার উপদ্রব আগের তুলনায় কমেছে। খাল পরিষ্কার ও পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।

জনগণের সহযোগিতায় খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রেখে ডিএনসিসি এলাকাকে ডেঙ্গুবাহী মশামুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

হকার পুনর্বাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করলেও অনেকেই পুনরায় ফুটপাতে বসছেন। এতে জনভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। হকার ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতায় পরিকল্পিত পুনর্বাসন কার্যক্রম সফল করা হবে।

তিনি আরো বলেন, এলাকার সড়ক সম্প্রসারণ, স্ট্রিট লাইটিং ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অন্যান্য নাগরিক সমস্যা সমাধানে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।

ব্যবসায়ীদের ট্যাক্স কমানোর দাবির বিষয়ে প্রশাসক বলেন, তাদের আবেদন ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করে করহার যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সচেতন নাগরিকদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

অঞ্চল-১-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো: কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। বাসস