কারামুক্ত হলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

সাবেক এই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, রায় জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ মোট নয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল এবং সবগুলোতেই তিনি জামিন পেয়েছেন। এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে নতুন করে আর কোনো মামলায় গ্রেফতার না দেখানোয় তার মুক্তিতে আইনি কোনো বাধা ছিল না।

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক |ইন্টারনেট

সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর কারামুক্ত হয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক।

আজ বুধবার বিকেলে কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।

বিষয়িটি নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু।

এর আগে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত খায়রুল হকের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বহাল রাখলে তার কারামুক্তির আইনি পথ উন্মুক্ত হয়। হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলেও চেম্বার বিচারপতি মো: রেজাউল হক সেটিতে ‘নো অর্ডার’ দেন।

তার আইনজীবীরা জানান, সাবেক এই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, রায় জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ মোট নয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল এবং সবগুলোতেই তিনি জামিন পেয়েছেন। এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে নতুন করে আর কোনো মামলায় গ্রেফতার না দেখানোয় তার মুক্তিতে আইনি কোনো বাধা ছিল না।

মামলার নথি অনুযায়ী, একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হলেও ঘটনাটির অনেক আগেই ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই থেকে তিনি টানা কারাবন্দি ছিলেন।

পরে সুনির্দিষ্ট নতুন মামলা ছাড়া তাকে গ্রেফতার বা হয়রানি না করার নির্দেশ দেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আপিল আবেদন নিষ্পত্তির পর ১০ আগস্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে জামিন দেন।

সাবেক এই প্রধান বিচারপতির গ্রেফতারের পেছনে তার একাধিক বিতর্কিত ভূমিকা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। আইনজীবী ও বিশিষ্টজনদের মতে, সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ সংক্রান্ত রায়ের মূল অংশ পরিবর্তন ও জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইন কমিশনের পদ বাগিয়ে নেয়া, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের একতরফা আদেশ এবং আগাম জামিনের এখতিয়ার সংক্রান্ত রায়ে তার ভূমিকা ব্যাপকভাবে বিতর্কিত হয়। এ ছাড়া বিচারপতি থাকাকালে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে চিকিৎসা অনুদান গ্রহণ এবং রাজউকের প্লট বরাদ্দে অনিয়মের মতো একাধিক অভিযোগও তার বিরুদ্ধে ওঠে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করেছিল।

খায়রুল হক ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ২০১১ সালের মে মাসে অবসরে যান। পরে তিনি দীর্ঘদিন আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন সরকার পতনের পর তিনি ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন।