দেশীয় তৈলবীজ ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানকে ১০ বছর পর্যন্ত আয়কর অব্যাহতি

সরকার দেশীয় উৎপাদিত তৈলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত আয়কর অব্যাহতি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ১ জুলাই থেকে কার্যকর এ সুবিধায় প্রথম ৫ বছর ১০০%, পরের ৩ বছর ৫০% এবং শেষ ২ বছর ২৫% কর ছাড় পাওয়া যাবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

দেশীয় উৎপাদিত তৈলবীজকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারকারী ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানকে আয়কর অব্যাহতি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আয়কর)।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৭৬-এর উপধারা (১) অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার এ কর সুবিধা প্রদান করেছে। আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে এ প্রজ্ঞাপন কার্যকর হবে।

ঘোষিত সুবিধা অনুযায়ী, স্থানীয় তৈলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রথম পাঁচ বছর শতভাগ আয়কর অব্যাহতি পাবে।

পরবর্তী তিন বছর (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম বছর) ৫০ শতাংশ এবং নবম ও দশম বছরে ২৫ শতাংশ হারে কর অব্যাহতি সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

কর অব্যাহতি পেতে প্রতিষ্ঠানকে আয়কর আইন, ২০২৩-এর সব বিধান মেনে চলতে হবে এবং কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর অধীনে নিবন্ধিত হতে হবে।

এছাড়া স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত তৈলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উৎপাদন বাধ্যতামূলক এবং এ কার্যক্রম থেকে অর্জিত আয়ের পৃথক হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রতি আয়বর্ষে নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণী ও স্থানীয় তৈলবীজ ব্যবহারের তথ্য দাখিল করতে হবে।

একইসাথে অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে আয়কর আইনের বিধান অনুযায়ী প্রযোজ্য উৎসে কর (টিডিএস) কর্তন করে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

সরকারের এ উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত তৈলবীজের ব্যবহার বৃদ্ধি, আমদানিনির্ভরতা কমানো ও দেশীয় ভোজ্যতেল শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো: আবদুর রহমান খান এ প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।

সূত্র : বাসস