জোটসঙ্গীদের সাথে আলোচনা করেই স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী : মির্জা ফখরুল

‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে আইন হয়েছে, সে আইনে কিন্তু দলীয়ভাবে নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং আমার মনে হয় সে বিষয়টা আমরা আলোচনা এখন না করতেও পারি। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা পরস্পর আলোচনা করব।’

অনলাইন প্রতিবেদক
যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর সাথে জোটসঙ্গীদের আলোচনা ও রাতের ভোজের ফাঁকে গণমাধ্যমকে মির্জা ফখরুল
যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর সাথে জোটসঙ্গীদের আলোচনা ও রাতের ভোজের ফাঁকে গণমাধ্যমকে মির্জা ফখরুল |নয়া দিগন্ত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী দেয়াসহ সব বিষয়ে জোটসঙ্গীদের সাথে পারস্পরিক আলোচনা করে ঠিক করবেন বলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে আইন হয়েছে, সে আইনে কিন্তু দলীয়ভাবে নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং আমার মনে হয় সে বিষয়টা আমরা আলোচনা এখন না করতেও পারি। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা পরস্পর আলোচনা করব।

সোমবার (২০ জুলাই) যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর সাথে জোটসঙ্গীদের আলোচনা ও রাতের ভোজের ফাঁকে গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রক্তক্ষয়ী এবং ছাত্রদের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা স্বৈরাচারকে সরিয়ে, হাসিনা সরকারকে সরিয়ে আমরা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করবার সুযোগ পেয়েছি। আন্তরিকভাবে সেজন্যই আমরা সেই সমস্ত শহীদদের স্মরণ করতে চাই, যারা তাদের জীবন বাজি রেখে এবং অসুস্থ হয়ে, আহত হয়ে, চোখ হারিয়ে যারা আমাদের জন্য এই নতুন সুযোগ এনে দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আজকে প্রধানমন্ত্রী এই আন্দোলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাথে যারা ছিলেন, যারা একসাথে যুগপৎ আন্দোলন করেছেন দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর, তাদেরকে তিনি আহ্বান জানিয়েছিলেন আজকে কথা বলার জন্য, তাদের সাথে একসাথে একটু সামান্য কিছু ডাল-ভাত খাওয়ার জন্য। দীর্ঘ ১৫ বছরে যখন একসাথে আন্দোলন করেছি, সেই সব দলগুলোকে নিয়ে আমরা কেউ কারাগারে গেছি, কেউ আমরা মামলার মধ্যে পড়েছি, কেউ গুম হয়েছি, খুন হয়েছি—এরকম অনেকেই আছেন। সেজন্যই একটা আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল।’

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জোটের সকলের সাথে আন্তরিকতার সাথে দেখা করেছেন এবং যিনি কথা বলেছেন, আমাদের অনেক রাজনৈতিক দল যারা কথা বলেছেন, তারা সবাই প্রধানমন্ত্রীর সেই শুরু, সরকার যার সেই শুরু, সেটাকে তারা প্রশংসা করেছেন। এবং এই যে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে আসার পরে সংসদ দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে তিনি যে নির্বাচনের যে সংগ্রাম, নির্বাচন যে পরিচালনা, সে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটা টু-থার্ড মেজরিটি নিয়ে এসেছেন, সেজন্য তিনি তাদেরকে, এই রাজনৈতিক দলকে তিনি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যে, সরকারকে গুছিয়ে একটা জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়ার কাজ, সেটা শুরু হয়েছে। আমাদের এটা অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, আমরা একটা ধ্বংসস্তূপ থেকে কিন্তু কাজ শুরু করেছি। একেবারেই অর্থনীতি ধ্বংস করা হয়েছে। লুট করে নিয়ে গেছে সমস্ত ব্যাংকগুলো। সব জায়গায় একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিল তারা। সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙেছে। সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার আমাদের প্রধানমন্ত্রী সেটাকে গড়ে তোলার জন্য কাজ শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ৩১ দফা কর্মসূচি, যেটা আমরা একসাথে দিয়েছিলাম, সেই কর্মসূচি সর্বশক্তি দিয়ে বাস্তবায়িত হবে। এবং এটাও বলেছেন, আবারো জোর দিয়েই বলেছেন যে, জুলাই সনদ—যেটা আমরা সবাই স্বাক্ষর করেছি, সেই জুলাই সনদ, আমি আবার রিপিট করছি যে স্বাক্ষর করেছি, সেটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।’