গণতন্ত্র একটি আস্থার জায়গা : চিফ হুইপ

কোথাও কোনো সমস্যার উদ্ভব হলে আপনারা প্রশাসনের দ্বারস্থ হবেন অথবা প্রয়োজনে আমাকে জানাবেন। কিন্তু কেউ কখনো আইন হাতে তুলে নেবেন না। আমরা মানুষের কল্যাণের জন্য নির্বাচিত হয়েছি। কাজেই মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করাটা আমাদের দায়িত্ব।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন চিফ হুইপ মো: নূরুল ইসলাম
সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন চিফ হুইপ মো: নূরুল ইসলাম |বাসস

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো: নূরুল ইসলাম বলেছেন, গণতন্ত্র হলো একটি আস্থার জায়গা। আমরা বিরোধী দলকে বিশ্বাস করব, আর বিরোধী দলও আমাদের বিশ্বাস করবে।

আজ রোববার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো: রেজাউল করিম বাদশা ও মো. মাহমুদুল হক রুবেলের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।

নূরুল ইসলাম বলেন, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত সবার উদ্দেশে বলেছেন, ‘কোথাও কোনো সমস্যার উদ্ভব হলে আপনারা প্রশাসনের দ্বারস্থ হবেন অথবা প্রয়োজনে আমাকে জানাবেন। কিন্তু কেউ কখনো আইন হাতে তুলে নেবেন না। আমরা মানুষের কল্যাণের জন্য নির্বাচিত হয়েছি। কাজেই মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করাটা আমাদের দায়িত্ব। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যে দায়িত্ব পালন করা দরকার, আপনারা সেই দায়িত্ব পালন করবেন সংসদে এবং সংসদের বাইরে। আমরা সত্যিকার অর্থেই একটি কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র গড়তে চাই। এরকম রাষ্ট্র গড়ার ক্ষেত্রে আপনারা আমার টুলস এবং হ্যান্ডস।’

জ্বালানি সঙ্কট নিরসন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি সমস্যা সমাধানে ভর্তুকির ওপর আরো ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করেছেন। আপনারা জানেন, বিগত স্বৈরাচার এই দেশ থেকে ২৭ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে। এই ভর্তুকির টাকা মানুষের কল্যাণে কাজে লাগবে। প্রধানমন্ত্রী চান এই দেশের টাকা পাচার নয়, মানুষের কল্যাণে কাজে লাগুক এবং এটি শুধু তারেক রহমানকে দিয়েই সম্ভব।

তিনি বলেন, আমরা বিরোধী দলীয় ও সরকার দলীয় সদস্য দ্বারা গঠিত বিশেষ কমিটির মাধ্যমে ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই বাছাই করেছি। চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে আমরা একমত হই যে ১৬টি অধ্যাদেশে সংশোধনী আনা দরকার। তাই আমরা এগুলো বিল আকারে পরে উত্থাপন করব এবং ১১৭টি অধ্যাদেশ আমরা পাস করব। সেভাবেই আমরা পার্লামেন্টে পাস করেছি এবং এর জন্য সময় পেয়েছি মাত্র পাঁচ দিন। আমিসহ সংসদ সচিবালয়, বিজি প্রেসের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ নির্ঘুম রাত কাটিয়ে এর জন্য কাজ করেছি। বাংলাদেশের ইতিহাসে পাঁচ দিনে ১১৭ বিল পাস করার রেকর্ড এই প্রথম, নজিরবিহীন। এতকিছুর পর বিরোধী দলের সদস্যগণ ছোট দু’টি সংশোধনী আনার কারণে একটি ঠুনকো বিষয় নিয়ে ওয়াকআউট করেছেন। এ ঘটনায় আমরা খুব দুঃখ পেয়েছি। তবে ওয়াক আউট গণতন্ত্রের একটি অংশ, তাদের অধিকার আছে ওয়াকআউট করার।

চিফ হুইপ বলেন, একাত্তর থেকে শুরু করে, পঁচাত্তরের দুর্ভিক্ষ, পঁচাত্তরের বাকশাল, নব্বইয়ের গণআন্দোলন ও চব্বিশের গণঅভুত্থানকে একত্র করে আমরা জুলাই জাদুঘরকে সমৃদ্ধ করতে চাই। এখানে মন্ত্রী সম্পৃক্ত থাকলে কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে। এটা কোনো জাদুঘর না, এটি হবে একটি জীবন্ত বিষয়।