‘বিএআরএফ মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ পেলেন ৯ সাংবাদিক

কৃষি সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি পেলেন তারা

প্রিন্ট, অনলাইন ও টেলিভিশন ক্যাটাগরিতে কৃষি বিষয়ক সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য নয়জন সাংবাদিককে এ পুরস্কার দেয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
সনদ হাতে পুরস্কারপ্রাপ্তরা
সনদ হাতে পুরস্কারপ্রাপ্তরা |নয়া দিগন্ত

কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষকের সমস্যা-সম্ভাবনা এবং দেশের কৃষি উন্নয়নকে গণমাধ্যমে গুরুত্বের সাথে তুলে ধরার স্বীকৃতি হিসেবে প্রথমবারের মতো ‘বিএআরএফ মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ দিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচার রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএআরএফ)।

প্রিন্ট, অনলাইন ও টেলিভিশন ক্যাটাগরিতে কৃষি বিষয়ক সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য নয়জন সাংবাদিককে এ পুরস্কার দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রত্যেক বিজয়ীকে ৩০ হাজার টাকা, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেয়া হয়। সহযোগিতায় ছিল এনইবিএল অ্যাগ্রো লিমিটেড, কনকর্ড হেলথ গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ ও সুপ্রিম সিড।

পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিকরা হলেন— দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের শাহাদাত হোসেন বিপ্লব, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের শাহিদ আহমেদ সোহাগ, দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের ফারুক আহমাদ আরিফ, জাগো নিউজ ২৪ ডটকমের ডি এম নাজমুল হুসাইন, দৈনিক সমকালের জাহিদুর রহমান, আজকের পত্রিকার সাইফুল মাসুম, এটিএন নিউজের ফেরদৌস রহমান, দৈনিক যুগান্তরের ইয়াসিন রহমান ও এখন টেলিভিশনের সাজিদ আরাফাত।

বিএআরএফ সভাপতি রফিকুল ইসলাম সবুজের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কাওসার আজমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো: আবদুছ ছালাম, সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: আব্দুর রহিম এবং বাংলাদেশ সিড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কৃষিবিদ মোহাম্মদ মাসুম। অতিথিরা পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন।

অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো: আবদুছ ছালাম বলেন, ‘সীমিত জমি থেকে ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা পূরণে গবেষণার বিকল্প নেই।’

তিনি জানান, জাপান গবেষণা খাতে জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, চীন ২ দশমিক ১ শতাংশ, ভারত ০ দশমিক ৯ শতাংশ ব্যয় করে। কিন্তু বাংলাদেশ মাত্র ০ দশমিক ৬ শতাংশ ব্যয় করে।

তিনি বলেন, ‘মেধাবী ও সুস্থ জাতি গঠনে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য গবেষণা ও কৃষি উদ্ভাবনে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: আব্দুর রহিম বলেন, ‘কৃষি খাতে যে বিপ্লব ঘটেছে, তার পেছনে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’ কৃষি প্রযুক্তি, মাঠপর্যায়ের উদ্ভাবন ও কৃষকের সফলতার গল্পগুলো আরো বেশি করে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। একইসাথে কৃষি সাংবাদিকদের জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ সিড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মাসুম বলেন, ‘দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে দেশীয় জাতের নারিকেল চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে বছরে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার আমদানি ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।’

বিসিএস (অবসরপ্রাপ্ত) কৃষি ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব আহমেদ ইকবাল চৌধুরী, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবু নোমান ফারুক, কৃষিবিদ ড. মেহেদী মাসুদ, কৃষিবিদ মোহাম্মদ আরিফুর রহমান,কৃষিবিদ ড. বদরুল হক, বিএআরসির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শাহ মো: মনির হোসেন, কৃষিবিদ ড. আব্দুল কাইউম, কৃষিবিদ জিয়াউর রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক মুন্না রায়হান ও ফয়জুল সিদ্দিকী।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের পক্ষে অনুভূতি ব্যক্ত করেন ফেরদৌস রহমান ও শাহাদাত হোসেন বিপ্লব।