দেশের সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা আরো বিস্তৃত করতে জাতীয় আইনগত সহায়তা অধিদফতরের সাথে পৃথক দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ও ব্র্যাকের ‘সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা’ (সেল্প) কর্মসূচি।
বৃহস্পতিবার সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামানের উপস্থিতিতে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
‘আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর আওতায় দেশে প্রথমবারের মতো পেশাদার মধ্যস্থতাকারী (প্রফেশনাল মেডিয়েটর) তৈরির সুযোগ তৈরি এবং তাদের প্রশিক্ষণ ও আইনি স্বীকৃতি নিশ্চিত করার ধারাবাহিকতায় এই সমঝোতা স্মারক দুইটি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
প্রথম সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদফতর (ডিবিএলএ) এবং ব্লাস্ট যৌথভাবে ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে তিনজন কোর্ট প্যারালিগ্যাল নিয়োগ ও পরিচালনা করবে। ব্লাস্টের তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত এই প্যারালিগ্যালরা শ্রম আইন সহায়তা সেলে আগত শ্রমিকদের শুধু প্রয়োজনীয় আইনি তথ্য সরবরাহ করবেন। তবে তারা ‘ডু নো হার্ম’ (কারো ক্ষতি না করা) নীতি অনুসরণ করবেন এবং সরাসরি কোনো আইনি পরামর্শ প্রদান করতে পারবেন না।
পাশাপাশি, ব্লাস্ট পরিচালিত আপসযোগ্য বিরোধের মধ্যস্থতা সফল হলে ডিবিএলএ তাকে সরকারি আইনি স্বীকৃতি দেবে এবং মধ্যস্থতা ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট লিগ্যাল এইড অফিসারের মাধ্যমে আদালতে নিয়মিত মামলা দায়েরের জন্য ব্যর্থতার প্রত্যয়নপত্র দেয়া হবে।
অন্য চুক্তিটির অধীনে ব্র্যাকের নিজস্ব অর্থায়নে পেশাদার মধ্যস্থতাকারীদের জন্য ছয়টি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে। সফল অংশগ্রহণকারীদের সনদপত্র প্রদান করবে ডিবিএলএ। ব্র্যাকের সনদী মধ্যস্থতাকারী কর্তৃক মীমাংসিত বিরোধের নথি সংশ্লিষ্ট চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার (সিএলএও) দ্বারা সত্যতা যাচাই শেষে আইনি বৈধতা পাবে। তাছাড়া বিবাদী অনুপস্থিত থাকলে বা মধ্যস্থতা অমীমাংসিত থাকলে আদালতে মামলা করার সুযোগ রেখে প্রতিবেদন জারি করবে লিগ্যাল এইড অফিস।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান বলেন, সরকারি লিগ্যাল এইড ব্যবস্থার সাথে শীর্ষস্থানীয় এনজিওগুলোর এই প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় দেশের বিচারপ্রার্থী প্রান্তিক পর্যায়ের জনগোষ্ঠী ও শ্রমিক সমাজের কাছে দ্রুত ও আইনি সেবা পৌঁছে দিতে এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, ব্লাস্ট ও ব্র্যাকের মতো অভিজ্ঞ এনজিওগুলোর দক্ষতা ও প্রান্তিক পর্যায়ে কাজ করার সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে সরকার কাজে লাগাতে চায়। পাশাপাশি জাপান (জাইকা), জার্মানি (জিআইজেড) ও ইউএনডিপির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাও এডিআর জোরদারে সহযোগিতা করছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো: খাদেম উল কায়েস, অতিরিক্ত সচিব এস. এম. এরশাদুল আলম, আইনগত সহায়তা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: মঞ্জুরুল হোসেন, ব্লাস্টের অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং ব্র্যাকের সেল্প কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শাশ্বত বিপ্লবসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস



