পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জনগণের সাথে আরো নিবিড় সম্পর্ক করতে হবে : সৈয়দা রিজওয়ানা

এছাড়া বাংলাদেশের ৬৪ জেলা থেকে ৬৪টি নদী পরিষ্কারকরণের কর্মপরিকল্পনা আমরা এনেছি। তার থেকে সাত বিভাগের সাতটি নদী, কক্সবাজারের বাঁশখালি ও ঢাকার চারপাশের চারটিসহ মোট ১২টি নদী দখল ও দূষণমুক্তকরণের পরিকল্পনা আমরা চূড়ান্ত করছি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান |সংগৃহীত

পানি সম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জনগণের সাথে আরো নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। বোর্ডকে জনগণ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগ ও আবেদনের উত্তর দিতে হবে এবং জনগণকে আশ্বস্ত করতে হবে। একইসাথে তাদের অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিকারসহ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।’

শনিবার (৩১ মে) ঢাকা পানি ভবনের মাল্টিপারপাস হলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘পানি খাতে সংস্কার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘এ বর্ষার সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নয়টি জোনের প্রধান প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীদের নিয়মিত মাঠে যেতে হবে। যেন মানুষের ক্ষয়-ক্ষতি কমিয়ে আনতে তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়া যায়। আমরা আসন্ন বর্ষাকে সামনে রেখে একটা টাস্কফোর্স গঠন করতে চাই। যেখানে পানি সম্পদ সচিবের নেতৃত্বে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিজি, এডিজি ও সারাদেশের নয় জোনের নয়জন প্রধান প্রকৌশলী সমন্বয়ে একটা টাস্কফোর্স কাজ করবে। এ টাস্কফোর্স দেখবে বর্ষায় কোথায় কোথায় জরুরি ভিত্তিতে আমাদের যেতে হবে এবং কোথায় দ্রুত কাজ করতে হবে।’

এ উপদেষ্টা বলেন, ‘সারাদেশের নয় জোনের মধ্যে যে প্রধান প্রকৌশলী ও তরুণ প্রকৌশলীর কাজ সবচেয়ে ভালো হবে এবং যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ থাকবে না, বর্ষা শেষে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে তাকে পুরস্কার দেয়া হবে। হৃদয়ে ধারণ করে কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘খুব সহসাই তুরাগ নদী দখল ও দূষণমুক্তকরণে কর্মপরিকল্পনাটা চূড়ান্ত হয়ে যাচ্ছে। আমরা আশা করছি, আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তুরাগ নদী দখল ও দূষণমুক্তকরণের কাজটা শুরু করে দিতে পারব। এক্ষেত্রে এডিবি তুরাগের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করে দিবে বলে আশ্বস্ত করেছে।’

তিনি আরা বলেন, ‘বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী দখল ও দূষণমুক্তকরণের পরিকল্পনাটা আমরা চূড়ান্ত করে দিয়ে যাব, যেন পরের সরকার এসে এ নদীগুলো দূষণমুক্তকরণের কাজ এগিয়ে নিতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশের ৬৪ জেলা থেকে ৬৪টি নদী পরিষ্কারকরণের কর্মপরিকল্পনা আমরা এনেছি। তার থেকে সাত বিভাগের সাতটি নদী, কক্সবাজারের বাঁশখালি ও ঢাকার চারপাশের চারটিসহ মোট ১২টি নদী দখল ও দূষণমুক্তকরণের পরিকল্পনা আমরা চূড়ান্ত করছি। একইসাথে লবণদহ, হাড়িধোয়া ও সুতাং নদী দখল ও দূষণমুক্তকরণের কাজটি আমরা জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টফান্ড থেকে বরাদ্দ দিয়ে কাজ করা শুরু করে দেব।’

অনুষ্ঠানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. শ্যামল চন্দ্র দাস দিবসের তাৎপর্য উল্লেখ করে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসান এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো: তাহমিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) মিজানুর রহমান। আলোচনা অনুষ্ঠানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আ ন ম বজলুর রশীদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দফতর-সংস্থার প্রধান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালকরা, প্রধান প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।