রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে চাঞ্চল্যকর যুবক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এজাহারনামীয় চারজনকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন–আরমান হক বিপু ওরফে যুব (২১), মো: ইসমাঈল হোসেন ফাহিম ওরফে শাফিন (২১), কামরুল ইসলাম রানা (৩০) ও আলী হোসেন (৫০)।
যাত্রাবাড়ী থানা সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তার ছেলে সাদমান সাইফ রাইভি (২৩) সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং পাশাপাশি তেজগাঁও এলাকায় একটি ঔষধ কোম্পানিতে পার্ট-টাইম চাকরি করতেন। গত সোমবার (২৩ মার্চ) রাত ৯টায় বন্ধুর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরবর্তী সময়ে পরিবারের পক্ষ থেকে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভিকটিমের বাবা ডিএমপি গেন্ডারিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। একই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিকটিমের আত্মীয়-স্বজনরা জানতে পারেন যে, যাত্রাবাড়ী থানাধীন উত্তর কুতুবখালী এলাকায় একটি অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে গিয়ে লাশের পরিহিত জার্সিতে ‘RAIVI’ লেখা দেখে পরিবারের সদস্যরা লাশটি সাদমান সাইফ রাইভির বলে শনাক্ত করেন।
যাত্রাবাড়ী থানা সূত্রে আরো জানা যায়, ২৬ মার্চ সকাল আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটে উত্তর কুতুবখালী এলাকায় একটি খাল থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তী সময়ে বাদীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়। তদন্তে প্রাপ্ত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২৪ মার্চ ভোর আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটে গ্রেফতারকৃত আসামি আরমান হক বিপু ও ইসমাঈল হোসেন ফাহিম ভিকটিম রাইভিকে কাঁধে হাত দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের পেছনে মো: জুবায়ের ও কামরুল ইসলাম রানা হাঁটছিল।
এছাড়া ২৩ মার্চ রাতে কামরুল ইসলাম রানার বাসার ছাদে একটি অনুষ্ঠানে ভিকটিম রাইভিসহ আসামিরা উপস্থিত ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ২৪ মার্চ ভোর থেকে ২৬ মার্চ সকালের মধ্যে যেকোনো সময় আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে রাইভিকে হত্যা করে লাশ গুমের উদ্দেশে খালে ফেলে দেয়।
যাত্রাবাড়ী থানা সূত্রে আরো জানা যায়, প্রধান সন্দেহভাজন মো: জুবায়েরকে বিদেশে (অস্ট্রেলিয়া) পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে এবং ঘটনাস্থলের গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে (২৮ মার্চ) সকাল আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উল্লিখিত এজাহারনামীয় আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।
থানা সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।


