ইবিএল চেয়ারম্যান শওকত আলীর অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদক

অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা আইনানুগভাবে তথ্য সংগ্রহ করছেন। তারা অনুসন্ধান শেষে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দিলে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে জানা যাবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী
ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী |নয়া দিগন্ত

যুক্তরাজ্যে ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরীর ২৫ মিলিয়ন ডলার শনাক্ত এবং অপ্রদর্শিত বিদেশী সম্পদের বিপরীতে প্রায় ৩০৭ কোটি টাকা জরিমানা করার পর এবার তার বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এজন্য তথ্য-উপাত্ত চেয়ে বিভিন্ন দফতরে চিঠিও পাঠিয়েছে দুদকের অনুসন্ধানকারী দল। সর্বশেষ গত ১ জুলাই প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে চিঠি পাঠিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক মো: মুস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের টিম। চিঠিতে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে তথ্য পাঠানোর তাগিদ দেয়া হলেও গতকাল পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, কয়েকদিন ধরে বৈরি আবহাওয়ার কারণে তথ্য সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছে। এর পরও তথ্য না পেলে চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করে আগামী সপ্তাহে আরেকটি তাগিদপত্র পাঠানো হবে।

এ ব্যাপারে দুদকের মুখপাত্র ও উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম বলেন, অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা আইনানুগভাবে তথ্য সংগ্রহ করছেন। তারা অনুসন্ধান শেষে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দিলে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে জানা যাবে।

একই অভিযোগের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এর আগে গত বছরের ১৫ নভেম্বর শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য, প্রত্যেকের জাতীয় পরিচয়পত্র, টিআইএনের তথ্য ও পাসপোর্টের কপি এবং চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি আরেক চিঠিতে আর্থিক লেনদেনের বিবরণী চেয়ে ইস্টার্ন ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেন অনুসন্ধান টিমের প্রধান মুস্তাফিজুর রহমান।

সূত্র জানায়, দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী, তার স্ত্রী, মেয়ে, ছেলে জারান আলী চৌধুরী এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে অন্তত ২৮টি ব্যাংকে ১৮৭টি অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শওকত আলীর নামে ১৪টি, তাসমিয়া আম্বারীনের নামে ১৫টি, জারা নামরীনের নয়টি, জারান আলীর তিনটি এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ১৪৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। গত বছরের ১৫ জুলাই পর্যন্ত এসব অ্যাকাউন্টে আট হাজার ৪০৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা জমা এবং আট হাজার ২৪৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

দুদক জানায়, শওকত আলী, তার পরিবারের সদস্য ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন বিশ্লেষণের পাশাপাশি জাহাজ আমদানির নামে খোলা ঋণপত্রের নথি সংগ্রহ করছে সংস্থাটি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্যে সম্পদ কেনার তথ্য পেতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসট্যান্স রিকোয়েস্ট বা এমএলএআর পাঠানো হবে বলে দুদক জানায়।