রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স নয়, বরং হাসপাতালের প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির।
শুক্রবার (১৩ জুন) সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে লাইসেন্স বাতিলের আদেশের কপি সংযুক্ত করে তিনি এ দাবি করেন।
শিশির মনির বলেন, গত ৪ জুন ‘দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’ অনুযায়ী আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। ওই নোটিশে লাইসেন্স নম্বর HSM 4310059 উল্লেখ করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল।
তার দাবি, উল্লেখিত লাইসেন্স নম্বরটি হাসপাতালের নয়; এটি প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স। হাসপাতালের লাইসেন্স নম্বর HSM 4310058। হাসপাতাল পরিচালনার জন্য সরকার দুটি পৃথক লাইসেন্স ইস্যু করেছে—একটি হাসপাতালের জন্য এবং অন্যটি প্যাথলজি ল্যাবরেটরির জন্য।
ফেসবুক পোস্টে হাসপাতাল ও প্যাথলজি বিভাগের লাইসেন্সের কপি প্রকাশ করে শিশির মনির প্রশ্ন তোলেন, “কর্তৃপক্ষ কোন লাইসেন্স বাতিল করেছে, সেটি তারাই ভালো বলতে পারবে। এটি অবহেলা নাকি ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত—সে বিচার জনগণের ওপর ছেড়ে দিলাম।”

তবে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান বলেন, “আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এসব যুক্তি দিয়ে কোনো লাভ হবে না। আমরা আগামীকাল সেখানে যাব। প্রয়োজন হলে পরে আদেশে সংশোধনী আনা হবে।”
এর আগে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, শোকজ নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় ‘দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’-এর ১১(২)(খ) ধারা অনুযায়ী আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। ফলে হাসপাতালটি বর্তমানে লাইসেন্সবিহীন এবং সেখানে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ না করার পরামর্শ দেন তিনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আদেশে বলা হয়, গত ২৭ মে হাসপাতালটির একটি ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অক্সিজেনের স্বল্পতা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে দায়ী করা হয়েছে। এ ঘটনার পর হাসপাতালটির লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে শোকজ নোটিশ দেয়া হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সময় বাড়ানোর আবেদন করে এবং ৯ জুন লিখিত জবাব জমা দেয়। তবে সেই ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।



