গুরুতর হৃদযন্ত্র ও ফুসফুস বিকল রোগীদের চিকিৎসায় ‘ইসিএমও’ লাইফ সাপোর্ট প্রযুক্তিকে এ ধরনের রোগীদের শেষ আশার আলো বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এক্সট্রাকরপোরেল মেমব্রান্স অক্সিজেনাশন বা ইসিএমও একটি অত্যাধুনিক লাইফ সাপোর্ট প্রযুক্তি, যা গুরুতর হৃদযন্ত্র ও ফুসফুস বিকল রোগীদের ক্ষেত্রে শরীরের বাইরে কৃত্রিমভাবে রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণের মাধ্যমে জীবন রক্ষা করে। প্রচলিত ভেন্টিলেশন বা চিকিৎসায় সাড়া না দেয়া সঙ্কটাপন্ন রোগীদের জন্য ইসিএমও অনেক সময় শেষ আশার আলো হিসেবে বিবেচিত হয়।
চিকিৎসকরা বলেন, এই প্রযুক্তির সঠিক ও পরিকল্পিত ব্যবহার বাংলাদেশের ক্রিটিক্যাল কেয়ার চিকিৎসায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘ইসিএমও: বাংলাদেশ অ্যান্ড গ্লোবাল পারস্পেক্টিভ’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে এই তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশে আইসিইউ রোগীদের চিকিৎসায় বিশ্বমানের ইসিএমও সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অ্যাকিউট অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল কেয়ার ফিজিশিয়ানস ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (এসিসিপিএফবি) এই সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে ইসিএমও বিষয়ে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিয়ে অনলাইনে মূল বক্তব্য রাখেন সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের খ্যাতনামা কার্ডিওথোরাসিক ও ইসিএমও বিশেষজ্ঞ ডা: কে. আর. রামানাথান। তিনি ইসিএমও ব্যবহারের আন্তর্জাতিক প্রটোকল, রোগী নির্বাচন, আধুনিক কৌশল এবং দীর্ঘদিনের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ইসিএমও ব্যবহারের বর্তমান চিত্র ও ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করেন স্কয়ার হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের চিকিৎসক ডা: শিহান মাহমুদ রেদওয়ানুল হক এবং ডা: রাজিউদ্দিন আহমেদ। তাদের উপস্থাপনায় দেশের বাস্তবতায় ইসিএমও ব্যবহারের চ্যালেঞ্জ, কেস এক্সপেরিয়েন্স এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো উঠে আসে।
এছাড়াও ইসিএমও বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশেষ আলোচনা করেন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) ক্রিটিক্যাল কেয়ার সেন্টারের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা: মো: আমিনুর রহমান। তিনি সিএমএইচ-এ ইসিএমও সেবা চালুর বাস্তব অভিজ্ঞতা, কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অ্যাকিউট অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল কেয়ার ফিজিশিয়ানস ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ডা: রায়হান রাব্বানী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ইসিএমও সেবাকে টেকসই ও কার্যকর করতে প্রশিক্ষিত জনবল, সুনির্দিষ্ট প্রটোকল এবং সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। এই ধরনের আন্তর্জাতিক সেমিনার দেশের ক্রিটিক্যাল কেয়ার চিকিৎসায় দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সেমিনারে দেশের রেসপিরেটরি মেডিসিন, ইন্টারনাল মেডিসিন, কার্ডিওলজি, আইসিইউ ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অংশ নেন। প্যানেল আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি তাদের মতামত, অভিজ্ঞতা ও বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
চিকিৎসকরা বলেন, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে ইসিএমও সেবাকে আরো সংগঠিত ও সহজলভ্য করার মাধ্যমে বাংলাদেশের আইসিইউ রোগীদের চিকিৎসায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন ডা: মেহজাবিন জাহাঙ্গীর। সায়েন্টিফিক পার্টনার হিসেবে সাপোর্ট দিয়েছে রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।



