জনবল সঙ্কট দূর করতে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ

মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালগুলোতে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ (আইপিসি), বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে। সূত্র : বাসস

নয়া দিগন্ত অনলাইন

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দরিদ্র ও অসচ্ছল জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বল্প বা বিনামূল্যে চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে। একইসাথে সরকারি হাসপাতালের জনবল সঙ্কট দূর করতে পর্যায়ক্রমে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সোমবার জাতীয় সংসদে নওগাঁ-৩ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো: ফজলে হুদার লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পর্যায়ক্রমে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে বিদ্যমান শূন্য পদে জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দীর্ঘদিন পদোন্নতিবঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার চিকিৎসকদের পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পদোন্নতির ভিত্তিতে সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও জুনিয়র কনসালট্যান্টের শূন্য পদে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদায়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। খুব শিগগিরই এ পদোন্নতি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

তিনি জানান, শূন্য পদে জনবল নিয়োগ একটি চলমান প্রক্রিয়া। এর আওতায় ৪৫তম বিসিএসের মাধ্যমে ৪৫০ জন, ৪৬তম বিসিএসের মাধ্যমে ১ হাজার ৬৮২ জন, ৪৭তম বিসিএসের মাধ্যমে ১ হাজার ৩৩১ জন এবং ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে ৬৫০ জন সহকারী সার্জন নিয়োগের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মন্ত্রী আরো জানান, সিনিয়র স্টাফ নার্সের শূন্য পদ পূরণে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে নির্ধারিত মানদ- অনুযায়ী সেন্ট্রাল ইউনিট, অপারেশন থিয়েটার, লেবার রুম, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যানালাইজার, ব্লাড ব্যাংক, ইসিজি মেশিন, এক্স-রে, আল্ট্রাসাউন্ড, নেবুলাইজার, গ্লুকোমিটার, রক্তচাপ পরিমাপক যন্ত্র, পালস অক্সিমিটার, অ্যানেসথেসিয়া মেশিন, মনিটরিং যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আধুনিক ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত বরাদ্দের ভিত্তিতে সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হচ্ছে। রোগ নির্ণয়ের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতির চাহিদা পাওয়া গেলে সেগুলোও পর্যায়ক্রমে সরবরাহ করা হবে।

তিনি জানান, রোগীসেবার মানোন্নয়নে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যক্রম জোরদার, নিয়মিত তদারকি ও মনিটরিং এবং সিটিজেন চার্টার বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালগুলোতে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ (আইপিসি), বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে। সূত্র : বাসস