লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ৪ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেয়া হয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) পক্ষ থেকে দেয়া জরুরি স্বাস্থ্যসামগ্রী আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ শেষে তিনি একথা বলেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আইএফআরসি’র পক্ষ থেকে দেয়া জরুরি স্বাস্থ্যসামগ্রী গ্রহণ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন
আইএফআরসি’র পক্ষ থেকে দেয়া জরুরি স্বাস্থ্যসামগ্রী গ্রহণ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন |পিআইডি

সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত চার লাখ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন।

শনিবার (২৩ মে) সচিবালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) পক্ষ থেকে দেয়া জরুরি স্বাস্থ্যসামগ্রী আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ শেষে তিনি একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ১১ সেট ভেন্টিলেটর, ২৭ সেট নেবুলাইজার মেশিন, ২৭ সেট অক্সিজেন ফ্লো-মিটার ও ১ লাখ স্যালাইন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করছে আইএফআরসি। এছাড়া ২ হাজার ৪০০ রোগীকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা দিচ্ছে সংস্থাটি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ শিশুকে টিকার আওতায় আনা। এরই মধ্যে ২০ মে পর্যন্ত আমরা ১ কোটি ৮৪ লাখ ৩১ হাজার ১৪৯ শিশুকে টিকা দিয়েছি। এটি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ শতাংশ বেশি।

তিনি পরিসংখ্যানের বিষয়ে উল্লেখ করে বলেন, এত বড় একটি কর্মযজ্ঞে শতভাগ নিখুঁত পরিসংখ্যান অনেক উন্নত দেশেও সম্ভব হয় না। তবে আমাদের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই সফলতা এনেছেন।

বিশেষ ক্যাম্পেইনের মেয়াদ ২০ মে শেষ হলেও টিকাদান কার্যক্রম কোনোভাবেই বন্ধ হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার আমরা দেশের সব সিভিল সার্জন, হাসপাতালের পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়কদের সাথে জুম মিটিং করেছি। আমি নির্দেশ দিয়েছি, ২১ মে থেকে আমাদের নতুন পর্যায়ের টিকা দান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশের একটি শিশুও টিকার বাইরে থাকবে না, যতদিন সবার টিকাদান শেষ না হবে, ততদিন খুঁজে খুঁজে টিকাদান এবং মাইকিং কার্যক্রম চলমান থাকবে। এটি এখন একটি নিয়মিত ও চলমান প্রক্রিয়া।

সিলেটে সম্প্রতি হামে আক্রান্ত হয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমি সিলেটের সিভিল সার্জন ও পরিচালকের সাথে সরাসরি কথা বলেছি। অত্যন্ত কষ্টের বিষয় হলো, মৃত শিশুদের মধ্যে প্রায় কেউই ভ্যাকসিন বা টিকা নেয়নি। ছয় মাস, নয় মাস এবং এক বছর বয়সী এই শিশুরা টিকার আওতার বাইরে ছিল।

হামের টিকা নিয়ে অবহেলার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত কমিটি করা হবে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমি আগে বলেছি এই ব্যাপারে। বিচার করার চাইতে, আমাদের বাচ্চাদের বাঁচানোর জন্য এখন সবাই চেষ্টা করছি।’

সূত্র : বাসস