চীনের আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও ক্লিনিক্যাল দক্ষতা জ্ঞান বিনিময়, বিশেষজ্ঞ সহযোগিতা এবং মেডিক্যাল ট্যুরিজমের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতকে আরো শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) ঢাকার বনানীতে বেল্ট অ্যান্ড রোড হেলথকেয়ার সেন্টার আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মারুফ মোল্লা বলেন, গত তিন দিনে চীনের দুইটি স্বনামধন্য হাসপাতালের মধ্যে জেডজি হাসপাতাল থেকে আটজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বাংলাদেশে আনা হয়েছে।
সফরের সময় চীনা বিশেষজ্ঞরা ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করেন, রোগীদের সাথে কথা বলেন, বাংলাদেশী চিকিৎসকদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং পেশাগত চিকিৎসা পরামর্শ দেন।
সিইও বলেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো চীনের হাসপাতাল ও উন্নত চিকিৎসা দক্ষতার সহায়তায় বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতকে কিভাবে আরো উন্নত করা যায়, তা অনুসন্ধান করা।
তিনি জানান, এই কর্মসূচির আরেকটি উদ্দেশ্য হচ্ছে উন্নত চিকিৎসার জন্য চীনে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশী রোগীদের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং যারা বিদেশে যেতে অক্ষম, তাদের জন্য চীনা চিকিৎসকদের সাথে রিমোট কনসালটেশনের ব্যবস্থা করা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, বেল্ট অ্যান্ড রোড হেলথকেয়ার সেন্টার নিয়মিতভাবে আরো বেশি চীনা চিকিৎসককে বাংলাদেশে আনতে চায়, যাতে তারা সরাসরি চিকিৎসা সেবা, প্রশিক্ষণ এবং স্থানীয় চিকিৎসকদের জন্য কারিগরি সহায়তা দিতে পারেন।
তিনি আরো জানান, মেডিক্যাল ভিসা প্রদানে বাংলাদেশে চীনা দূতাবাস অত্যন্ত সহযোগিতাপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি রোগীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও হাসপাতালের আমন্ত্রণপত্র ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করছে। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ ও রোগীবান্ধব হচ্ছে।
সাধারণ উদ্বেগের বিষয়ে তিনি বলেন, চীনের বিভিন্ন শহর যেমন গুয়াংজু ও শেনঝেনে হালাল খাবার, দোভাষী ও নামাজের সুবিধা সহজলভ্য, যা বাংলাদেশী রোগীদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করে।
তিনি বলেন, ভাষা, খাবার বা ধর্মীয় অনুশীলন নিয়ে তেমন কোনো বড় বাধা নেই।
শেনঝেন হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডা: ডেন উইফেন বলেন, চীনের উন্নত ফার্টিলিটি (বন্ধ্যাত্ব) চিকিৎসা প্রযুক্তি বাংলাদেশী রোগী ও চিকিৎসকদের জন্য উল্লেখযোগ্য উপকার বয়ে আনতে পারে।
তিনি জানান, তাদের ফার্টিলিটি সেন্টারে অনন্য ও উন্নত পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে হাইড্রো-ইকোথেরাপির সহায়তায় ওভারিয়ান পাংচার, অস্বাভাবিক এন্ডোমেট্রিয়ামের চিকিৎসা, বারবার ইমপ্লান্টেশন ব্যর্থতার ব্যবস্থাপনা এবং পুনঃ পুনঃ গর্ভপাতের চিকিৎসা। এসবের সাথে আধুনিক পাশ্চাত্য চিকিৎসার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসা পদ্ধতির সমন্বয় করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধারাবাহিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি স্থানান্তর, বিশেষজ্ঞ বিনিময় এবং সহজীকৃত মেডিক্যাল ট্যুরিজমের মাধ্যমে চীন-বাংলাদেশ স্বাস্থ্যখাতের সহযোগিতা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নয়নে এবং রোগীদের জন্য আরো ভালো চিকিৎসা বিকল্প নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।



