বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের নিন্মহার নাগরিক অধিকার সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন ব্যবস্থাপনাকে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। বিদ্যমান জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন আইন সংস্কার করে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রভিত্তিক নিবন্ধন ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা অন্যতম জরুরি নীতি উদ্যোগ।
রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন-বিএমএ ভবনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন : অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়’ শীর্ষক সাংবাদিক কর্মশালায় এসব মতামত তুলে ধরেন বক্তারা।
গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এ কর্মশালার আয়োজন করে। গত ৩ ও ৪ মার্চ অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন এবং অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
বর্তমানে দেশে জন্ম নিবন্ধনের হার মাত্র ৫০ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৪৭ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রতিদিন হাজারো মানুষ জন্মগ্রহণ ও মৃত্যুবরণ করলেও তাদের প্রায় অর্ধেকই রাষ্ট্রীয় নথিতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না। ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ কার্যত রাষ্ট্রের হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নাগরিকের আইনি পরিচয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উত্তরাধিকার, সামাজিক সুরক্ষা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। নিবন্ধনবিহীন নাগরিকরা বাস্তবে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অদৃশ্য হয়ে পড়েন, যা শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, মানবপাচার ও বৈষম্যের ঝুঁকি বাড়ায়। একইসাথে, নির্ভরযোগ্য জন্ম ও মৃত্যুর তথ্যের অভাবে কার্যকর উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নীতি প্রণয়ন ব্যাহত হয়।
বিদ্যমান আইনে নিবন্ধনের দায়িত্ব প্রধানত পরিবারের ওপর, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর ওপর এই দায়িত্ব বাধ্যতামূলক করা হয়নি। কিন্তু দেশে প্রায় দুই তৃতীয়াংশ শিশুর জন্ম স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হয়ে থাকে। স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধন ব্যবস্থা না থাকায় অনেক জন্মই নিবন্ধনের বাইরে থেকে যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার মালদ্বীপ, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা স্বাস্থ্যকেন্দ্রভিত্তিক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে প্রায় শতভাগ নিবন্ধন নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশেও একই ধরনের সংস্কার জরুরি।
এ ব্যাপারে ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস এর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মো: নজরুল ইসলাম বলেন, শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন অর্জনে বিদ্যমান আইন যুগোপযোগী করার পাসাপাশি আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
কর্মশালায় জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিবন্ধনের দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে জাতিসঙ্ঘের আঞ্চলিক সংস্থা ইউএনএসকাপের শতভাগ নিবন্ধন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি এসডিজি ১৬.৯, সবার জন্য বৈধ পরিচয়পত্র, অর্জন সম্ভব হবে।
কর্মশালায় আলোচক হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের। কর্মশালায় গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞা’র কর্মসূচি প্রধান হাসান শাহরিয়ার এবং কোঅর্ডিনেটর মাশিয়াত আবেদিন।


