দেশে প্রতি ৯ শিশুর একটি থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক হয়ে জন্ম নেয়। এ হিসেবে দেশে ৮ থেকে ১১ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে জন্ম নেয়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সমীক্ষা অনুসারে, দেশে থ্যালাসেমিয়ার বাহক ১১.৪ শতাংশ। বংশগত এই রোগটি হলে শরীরে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। এ কারণে এ ধরনের রোগীদের মাসে এক থেকে দুই ব্যাগ রক্ত গ্রহণ করে বেঁচে থাকতে হয়।
বংশগত এই রোগটি বিয়ের আগে হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রফোরেসিস নামে একটি রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই জেনে নেয়া সম্ভব দম্পতি অথবা তাদের কেউ থ্যালাসেমিয়া রোগের জিন বহন করছে কি না। স্বামী-স্ত্রী দু’জনই থ্যালাসিমিয়ার বাহক হলে তাদের অনাগত সন্তান থ্যালাসেমিয়া রোগটি নিয়ে জন্ম নিতে পারে। তবে একজন থ্যালাসেমিয়া বাহক অনায়াসে আরেকজন সুস্থ মানুষকে বিয়ে করতে পারবেন। এক্ষেত্রে তাদের পরবর্তী প্রজন্ম সম্পূর্ণ সুস্থ থাকবে। তাই বিয়ের আগে থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা ও এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।
শুক্রবার (৮ মে) বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য দেন।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ এবং বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক ডা: মো: আবুল কালাম আজাদ।
এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘আর নয় আড়ালে: শনাক্ত হোক অজানা রোগী, পাশে দাঁড়াই অবহেলিতদের’।
আলোচনায় সভাপতিত্ব ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: মনজুর মোরশেদ। আরো বক্তব্য দেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট উইংয়ের সাবেক সদস্য ড. এস এম হুমায়ূন কবীর, বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: সৈয়দা মাসুমা রহমান প্রমুখ।
আলোচনায় অধ্যাপক ডা: জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়া রোগের বিস্তার ক্রমেই বেড়ে চলেছে। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে চিকিৎসার পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ করতে পেরেছে। কিন্তু আমাদের দেশে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে এখনো কোনো গাইডলাইন নেই।’
তিনি বলেন, ‘বিয়ের আগে স্বামী এবং স্ত্রী দুজনেরই থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সহজ হতো। এ জন্য আমাদের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি করে আমাদের সমাজ থেকে থ্যালাসেমিয়া নিয়ে কুসংস্কার দূর করতে হবে।’
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। অর্থের অভাবে দেশের মানুষ চিকিৎসা পাবেন না, এমন চিত্র আর থাকবে না। থ্যালাসেমিয়াসহ দেশের সার্বিক চিকিৎসাসেবা আধুনিক ও সহজলভ্য করার জন্য বর্তমান সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’
এর আগে মন্ত্রী ৫০ শয্যাবিশিষ্ট থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তিনি থ্যালাসেমিয়া রোগী ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন।
রাজধানীর মালিবাগে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের অধীনে ‘থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতাল’ নামে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত একটি হাসপাতালে এই রোগের রোগীদের সেবা দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে এই হাসপাতালে সাড়ে ৮ হাজারের বেশি নিবন্ধিত থ্যালাসেমিয়া রোগী নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন।



