মালদ্বীপে যথাযোগ্য মর্যাদা ও কূটনৈতিক সৌহার্দ্য এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশন মালদ্বীপের উদ্যোগে বাংলাদেশের ৫৫ তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে দেশটির বাণিজ্যিক ও পর্যটন কেন্দ্রস্থল রাজধানী মালের এক অভিজাত কনভেনশন সেন্টারে বর্ণাঢ্য কূটনৈতিক সংবর্ধনা ও ন্যাশনাল ডে রিসেপশনের আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপের পরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল্লাহ খলিল ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম। দেশটির উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও বসবাসরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত এবং আবেগঘন পরিবেশে সমবেত কণ্ঠে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথির উপস্থিতিতে কেক কাটা হয়।
এ সময় দুদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় আঁধার পেরিয়ে।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মিয়াঞ্জ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও শিক্ষা উদ্যোক্তা আহমেদ মোত্তাকি, মালদ্বীপ বিএনপির সভাপতি মো: খলিলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামসহ অসংখ্য সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী।
অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম স্মরণ করেন মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের।
এ সময় বাংলাদেশে নবগঠিত সরকারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে হাইকমিশনার আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে ২০২৭–২০২৮ মেয়াদে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি পদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের প্রার্থিতা তুলে ধরা হয়। ব্যানারের মাধ্যমে তার প্রোফাইল উপস্থাপন করে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রগুলোর সমর্থনও কামনা করেন বাংলাদেশ হাইকমিশনার।
মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে মালদ্বীপের পরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল্লাহ খলিল বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বিদ্যমান শক্তিশালী সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করেন এবং দুইদেশের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
এছাড়াও মালদ্বীপের অর্থনীতি ও অবকাঠামো উন্নয়নে দেশটিতে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে উৎসবমুখর পরিবেশে র্যাফেল ড্র এর মাধ্যমে পুরস্কার হিসেবে মালদ্বীভিয়ান এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইব্রাহিম ইয়াস একটি ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের কান্ট্রি ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম দুইটি মালে-ঢাকার রিটার্ন এয়ার টিকেট প্রদান করেন। এতেই প্রবাসের মাটিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের এমন আয়োজন প্রবাসীদের দেশপ্রেম আর ঐক্যের বার্তাই যেন ফুটে উঠে।



