মালদ্বীপে প্রবাসীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, হাইকমিশনের সহায়তায় এলো দেশে

উন্নত জীবন আর পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে মালদ্বীপে পাড়ি জমিয়েছিলেন কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার ২৮ বছর বয়সী মো: হাসান মিয়া।

ওমর ফারুক, মালদ্বীপ
মৃত মো: হাসান মিয়া (২৮)
মৃত মো: হাসান মিয়া (২৮) |নয়া দিগন্ত

উন্নত জীবন আর পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে মালদ্বীপে পাড়ি জমিয়েছিলেন কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার ২৮ বছর বয়সী মো: হাসান মিয়া। সেই স্বপ্ন ডানা মেলার আগেই মাত্র দুই মাসের মাথায় নিভে গেল তার জীবনের প্রদীপ।

মালদ্বীপের মাটিতে আত্মহত্যা করে প্রাণ হারানো এই রেমিট্যান্সযোদ্ধার লাশ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে দেশে ফিরেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে এবং দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের সার্বিক সহযোগিতায়।

নিহতের বড় ভাই মো: সুমন মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘মাত্র দুই মাস হয় আমার ভাই (হাসান মিয়া) মালদ্বীপে পাড়ি জমিয়েছে। সে মালদ্বীপের থিনাধু আইল্যান্ডের একটি ক্যাফেতে কর্মরত ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই আমরা জানতে পারলাম, গত ১ সেপ্টেম্বর শেষ রাতে গলায় কারেন্টের তার পেঁচিয়ে ফাঁস লাগিয়ে তার মৃত্যু হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের জানামতে হাসানের কারো সাথে কোনো বিরোধ ছিল না, হয়তো পারিবারিক মতপার্থক্য থাকতে পারে!’

প্রত্যক্ষদর্শী একই আইল্যান্ডে কর্মরত মালদ্বীপ প্রবাসী মোজাম্মেল হক সাগর বলেন, ‘ঘটনার পরের দিন সকালে আমরা জানতে পারি হাসান আগের রাতের শেষ দিকে গলায় ফাঁস দিয়েছে। পরের দিন সকালে মালিক এসে প্রশাসনকে অবগত করলে তারা এসে হাসানকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান অনেক আগেই হাসানের মৃত্যু হয়েছে।’

সাগর বলেন, ‘হাসানের লাশ দেশে পাঠানোর জন্য আমরা বাংলাদেশ হাইকমিশনের শরণাপন্ন হয়েছিলাম। তারা আমাদের জানিয়েছেন পারিবারিকভাবে হাইকমিশন বরাবর লাশ দেশে পাঠানোর আবেদন করতে। কথা মতো আমরা হাসানের পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করি। এতে হাইকমিশনের সার্বিক সহযোগিতায় প্রয়াত হাসান মিয়ার লাশ দ্রুতই দেশে পাঠানো হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ হাইকমিশনের এমন মানবিক ও দায়িত্বশীল আচরণ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। আমি নিহত হাসানের পরিবারের পক্ষ থেকে হাইকমিশনের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশন জানায়, নিহতের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে দ্রুততার সঙ্গে প্রয়াত মো: হাসান মিয়ার লাশ দেশে প্রেরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম প্রবাসী এ ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতিও আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

একই সাথে প্রবাসীদের কল্যাণে বাংলাদেশ সরকারের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও মালদ্বীপ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য অংশীজনের সহযোগিতার মাধ্যমে হাইকমিশন ভবিষ্যতেও এ প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং সেবা প্রদান অব্যাহত রাখবে বলেও জানায় হাইকমিশন।

গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত প্রায় ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রয়াত মো. হাসান মিয়ার লাশ গ্রহণ করেন তারই বড় ভাই মো. সুমন মিয়া।