লন্ডনে শরীফ ওসমান হাদি স্মরণে দোয়া মাহফিল

ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ, সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অটল সংকল্প নিয়ে আয়োজিত এ সভায় কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী অংশগ্রহণ করেন।

মাহবুব আলী খানশূর, লন্ডন (যুক্তরাজ্য)
লন্ডনে ওসমান হাদি স্মরণে দোয়া মাহফিল
লন্ডনে ওসমান হাদি স্মরণে দোয়া মাহফিল |নয়া দিগন্ত

ইনকিলাব মঞ্চ ইউকে-এর উদ্যোগে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) পূর্ব লন্ডনের মায়েদা ব্যাঙ্কুয়েটিং হলে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ, সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অটল সংকল্প নিয়ে আয়োজিত এ সভায় কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী অংশগ্রহণ করেন।

সরেজমিনে, হলের ভেতরে প্রবেশ করতে প্রথমেই চোখে পড়ে মুড়ি আর বাতাসা টেবিলে রাখা। ব্যানারে লেখা ‘বুলেটে দমে না ইনসাফের আওয়াজ, সাংস্কৃতিক দাসত্ব ভেঙে গড়বো নতুন সমাজ।’ ব্যানারের একপাশে হাদির কালো পাঞ্জাবী গায়ের ছবি। তারই পাশে লেখা বয়ানের লড়াই, সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ, ইনসাফ কায়েম। তার নিচে লেখা ‘বুলেটের বিপরীতে ইনসাফ, জুলুমের বিপরীতে মোনাজাত।’

ইনকিলাব মঞ্চ ইউকে-এর সদস্য নকিব চৌধুরীর সঞ্চালনায় এবং সংগঠনটির সদস্য সচিব বেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার আতাউর রহমান, বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহবুব খানশূর, এনাম চৌধুরী এবং কায়েস আজিজ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে দ্রোহের কবিতা আবৃত্তি করেন নকিব চৌধুরী, ডা: ইপশিতা এবং ব্যারিস্টার জাকির খান। সদস্যদের মাঝে আরো বক্তব্য রাখেন সানজিদা, ব্যারিস্টার সাব্বির এবং এনসিপি ইউকে-এর আহ্বায়ক শাকুর।

অনুষ্ঠানে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক মুজাহিদ রিয়াজ তার বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শহীদ হাদি হত্যার বিচার করতে হবে এবং এই বিচার থেকে মঞ্চের কর্মীরা এক ইঞ্চিও নড়বে না। কোনো পুরনো বন্দোবস্ত বা আপস মেনে নেয়া হবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশের মানুষের ট্যাক্সের টাকায় উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন কমিশন পরিচালিত হচ্ছে, অথচ দেশের কোটি মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন শহীদ হাদিকে যথাযথ সম্মান দেখাতে তারা ব্যর্থ হচ্ছে। বরং শহীদ হাদি নতুন প্রজন্মের সামনে যে সত্যের মুখচ্ছবি উন্মোচন করে গেছেন, তা ঢেকে দেয়ার অপচেষ্টা চলছে। এমনকি মূলধারার মিডিয়া পরিকল্পিতভাবে এ সত্য গোপন করছে, যার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।’

বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এইচ এ বান্না শহীদ হাদির আদর্শ ও বার্তা ছড়িয়ে দেয়ার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এ ন্যারেটিভের মালিকানা নিজেদের নিতে হবে। যার যার দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চকে এগিয়ে নিতে হবে।’

সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠন ইকুয়াল রাইটস ইন্টারন্যাশনালের (ইআরআই) প্রেসিডেন্ট মাহবুব আলী খানশূর তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের ভাই হাদির শহীদি মৃত্যুর তামান্না আল্লাহর কাছে কবুল হয়েছে। ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠার জন্যই হাদিকে শহীদ করা হয়েছে। ইআরআই প্রতিবছর ৭ জানুয়ারী ফেলানী দিবস উপলক্ষে লন্ডনের ভারতীয় হাইকমিশনারের সামনে সীমান্ত হত্যা বন্ধ ও বাংলাদেশে ভারতীয় আগ্রাসন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করে।’

সভাপতির বক্তব্যে বেলাল হোসেন শহীদ হাদির স্মৃতিচারণ করে তার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে অদম্য গতিতে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি ধৈর্য ও ঐক্যের সাথে আগামী দিনের সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। স্বল্প সময়ের নোটিশে দূর-দূরান্ত থেকে মঞ্চের কর্মীদের উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠান সফল করার জন্য তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে শহীদ হাদির আত্মার মাগফিরাত ও তার পরিবারের জন্য বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন শায়খ তারিক নাসরুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘শহীদ হাদির কণ্ঠ ও দর্শনকে সংস্কৃতির মূল ধারায় ধারণ করা এখন সময়ের দাবি। অনুষ্ঠান শেষে শহীদ হাদির পুনরুজ্জীবিত করা সংস্কৃতি অনুযায়ী ‘বাতাসা ও মুড়ি’ দিয়ে উপস্থিত অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়।’

আয়োজকবৃন্দের পক্ষ থেকে সদস্য সচিব তৌহিদুল করিম মুজাহিদ, ডা: মনওয়ার, ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ, মনজুর, আহমেদ এবং দিদারুল আলম উপস্থিত সকল সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।