মালয়েশিয়ায় জুলাই আন্দোলনে আটক সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীর ঘটনার দুই বছর পূর্তি

ওই বছরের ১৯ জুলাই জিওমেট্রিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে পুলিশের হাতে আটক হন বাংলাদেশের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ায় কর্মরত প্রবাসী সাংবাদিক আশরাফুল মামুন ও একজন ছাত্র। সে সময় ৩৬ জুলাইয়ের সমর্থনে ওই ক্যাম্পাসে কয়েক শ’ শিক্ষার্থী এবং প্রবাসীরা মানববন্ধন ও সমাবেশ করছিলেন। এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বাংলাদেশী আলী হায়দার। তখন আশরাফুল মামুন সংবাদ সংগ্রহ করেছিলেন। তখন পুলিশ সাইরেন বাজিয়ে এসে আশরাফুল মামুন ও একজন ছাত্রকে আটক করে সেতিওয়াংসা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

আশরাফুল মামুন, মালয়েশিয়া
নয়া দিগন্ত

২০২৪-এর অগ্নিঝড়া জুলাই আন্দোলন শুধুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর অগ্নি স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়েছিল সারা বিশ্বজুড়ে যেসব দেশে বাংলাদেশী প্রবাসীরা অবস্থান করছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়াজুড়ে জুলাই কোটা বিরোধী আন্দোলনের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ সময় জুলাই সমর্থনে আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ ও নিউজ কাভারিং করার কারণে আটক হন প্রবাসী সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী।

ওই বছরের ১৯ জুলাই জিওমেট্রিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে পুলিশের হাতে আটক হন বাংলাদেশের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ায় কর্মরত প্রবাসী সাংবাদিক আশরাফুল মামুন ও একজন ছাত্র। সে সময় ৩৬ জুলাইয়ের সমর্থনে ওই ক্যাম্পাসে কয়েক শ’ শিক্ষার্থী এবং প্রবাসীরা মানববন্ধন ও সমাবেশ করছিলেন। এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বাংলাদেশী আলী হায়দার। তখন আশরাফুল মামুন সংবাদ সংগ্রহ করেছিলেন। তখন পুলিশ সাইরেন বাজিয়ে এসে আশরাফুল মামুন ও একজন ছাত্রকে আটক করে সেতিওয়াংসা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ঢাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে মালয়েশিয়ান শিক্ষার্থীদের সমর্থন চেয়ে দেশটির জাতীয় গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেয়ায় সাংবাদিক মনোয়ার আলম নির্ঝরকে পুলিশ আটক করে এবং পরে ২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেন।

জিওমেট্রিকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও ১৯ জুলাইয়ের ওই দিনে কুয়ালামাপুরের আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়, সাইবারজায়া বিশ্ববিদ্যালয়, মসজিদ বিশ্ববিদ্যালয় ইউকেএম—এর ক্যাম্পাসে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের সাথে সাধারণ প্রবাসী ও কমিউনিটির নেতাকর্মীরাও সরাসরি মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন দেশের ছাত্র ও শিক্ষকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। তাছাড়া ক্যাম্পাস ছাড়াও কুয়ালামাপুরের বিভিন্ন জায়গায় প্রবাসীরা মানববন্ধন করেছে। প্রবাসের মাটিতেও ৩৬ জুলাইয়ের সমর্থনে শত শত আন্দোলনকারীর বাধভাঙ্গা ঢল দেখে কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে কাজাং থানায় অভিযোগ দেয়া হয় যে আন্দোলনকারীরা সন্ত্রাসী, তাদের আটক করা হউক, পরে শিক্ষার্থীরা পুলিশকে বুঝাতে সক্ষম হয় তারা কোনো সন্ত্রাসী নয়, তারা ঢাকার পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন করেছে। পরে পুলিশ এ বিষয়টি নিয়ে আর কোনো তৎপরতা চালায়নি।

তখন সাংবাদিক আশরাফুল মামুন ও বাংলাদেশী ছাত্রকে আটকের বিষয়টি বাংলাদেশ কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। আটকের পর একজন পুলিশ ইন্সপেক্টর, একজন সাব ইন্সপেক্টর এবং তিনজন বিশেষ গোয়েন্দা শাখার সদস্য দুইজনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

এ সময় পুলিশ বলেন, এটা বাংলাদেশ না, বিদেশে নিজ দেশের পক্ষে আন্দোলন করার নিয়ম নেই এবং এর জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হয়। পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারে এ আন্দোলনে তাদের সম্মতি ছিল। পরে কোনো ধরনের শর্ত বা লিখিত ছাড়াই দুইজনকে ছেড়ে দেয়া হয়।