মালয়েশিয়ায় সঙ্কটে থাকা কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশ দূতাবাসে চিঠি

অ্যারোফোম বলছে- তাদের ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকায় তারা আর্থিক সঙ্কটে রয়েছে, প্রোপার্টি বিক্রি করে কর্মীদের বকেয়া বেতন পরিশোধে সময় চেয়েছে তারা।

আশরাফুল মামুন, মালয়েশিয়া
ছবি : নয়া দিগন্ত

মালয়েশিয়ার সমুদ্র বন্দরনগরী পোর্ট কেলাংয়ে অ্যারোফোম ম্যানুফ্যাকচারিং নামক একটি কোম্পানিতে কর্মরত ১০৫ বাংলাদেশী কর্মী বেতন না পেয়ে কয়েক মাস ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই পরিস্থিতিতে মানবিক সহযোগিতাসহ জরুরি কনস্যুলার ও আইনি সহায়তার পাশাপাশি অভিবাসন সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন কর্মীদের নিয়োগ করা আইনজীবী।

এ বিষয়ে দূতাবাস বলছে- আমরা উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা করে সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করছি, তবে ওই কোম্পানি সময় চায়।

শুক্রবার (৩ জুন) আইনজীবীর পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ভোক্তভোগী শ্রমিকরা বর্তমানে গুরুতর খাদ্য পানীয়, শ্রম, কর্মসংস্থান এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত সঙ্কটে রয়েছেন, অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, তাদের খাবার পানি কেনার টাকা ফুরিয়ে গেছে, তাই তাদের জরুরি সাহায্য প্রয়োজন। তাদের পক্ষে মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাং শ্রম আদালতে বকেয়া বেতন ও অন্যান্য আইনগত পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে যৌথ মামলা চলমান রয়েছে। মামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শ্রমিকদের পাসপোর্টের তথ্য, ভিসার মেয়াদ, ওয়ারেন্ট টু অ্যাক্টসহ বিভিন্ন নথি যাচাই ও সমন্বয়ের কাজ চলছে।

চিঠি পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে এ বিষয়ে কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার মিনিস্টার মো: সিদ্দিকুর রহমান বলেন, একদিকে কর্মীদের মালয়েশিয়ার শ্রম আদালতে করা মামলা চলমান আছে, যা আগামী সেপ্টেম্বরে শুনানির তারিখ পড়েছে। অন্যদিকে আমরা কোম্পানির কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করছি।

অ্যারোফোম বলছে- তাদের ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকায় তারা আর্থিক সঙ্কটে রয়েছে, প্রোপার্টি বিক্রি করে কর্মীদের বকেয়া বেতন পরিশোধে সময় চেয়েছে তারা।

তিনি আরো বলেন, আমরা ইতোমধ্যে কর্মীদের মাঝে একবার খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছি।