মালদ্বীপের থিলাফুশি আইল্যান্ডে কর্মরত অবস্থায় দুইদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন ২৪ বছর বয়সী প্রবাসী বাংলাদেশী আমিন মিয়া। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে দেশটির ইন্ডাস্ট্রিয়াল দ্বীপের ময়লার স্তুপ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে মালদ্বীপ পুলিশ।
বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য ওই প্রবাসীর লাশ রাজধানী মালের ইন্দ্রীরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
নিহত আমিন মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তেজখালী ইউনিয়নের ইসমাইলের ছেলে।
একই দ্বীপে কর্মরত আবু আহমেদ সেলিম মিয়া বলেন, মালদ্বীপের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করপোরেশন লিমিটেড (ওয়েমকো) কোম্পানিতে ছয়মাস আগে যোগ দিয়েছেন আমিন মিয়া। নিখোঁজ হওয়ার দিনও প্রতিদিনের মতোই কাজে এসেছিলেন তিনি। কাজের একপর্যায়ে তাকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার নিখোঁজের বিষয়টি মালদ্বীপ পুলিশকে অবগত করেন।
তিনি আরো বলেন, দুইদিন ধরে খোঁজাখুঁজির পর গত রাতে সিসি ক্যামেরা দেখে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওই দ্বীপটির ময়লার স্তুপের ভেতর থেকে প্রবাসী আমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আমার ধারণা, কাজ করা অবস্থায় ময়লা ফেলার জন্য ব্যবহৃত এক্সক্যাভেটরের সাথে কোনো এক সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এজন্য এক্সক্যাভেটরের ড্রাইভারকে সন্দেহের তালিকায় রাখছেন অনেকে।
মালদ্বীপ পুলিশের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম সান এমভি জানিয়েছে, গত দুই দিনের অনুসন্ধানের পর বুধবার রাতে মৃত অবস্থায় প্রবাসী আমিন মিয়ার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে প্রবাসী আমিনের মৃত্যু নিখোঁজের দিন বা গত সোমবার হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তবে তদন্ত চলমান থাকায় বিস্তারিত তথ্য যথাসম্ভব সময়ে প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তারা।
এ বিষয়ে মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের কল্যাণ সহকারী মো: জসিম উদ্দিন বলেন, প্রবাসী আমিন মিয়ার মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। বিষয়টি সম্পর্কে হাইকমিশন অবগত রয়েছে। প্রবাসী আমিন মিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে মালদ্বীপ পুলিশের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান মিশনের এই কর্মকর্তা।



