মালয়েশিয়ার বন্দী শিবিরে ১৪০ মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের দাবি

ফোর্টিফাই রাইটস-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে সম্মিলিতভাবে ১০৯ জন আটক অবস্থায় মারা যান। আরেকটি তথ্যে জানানো হয়, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত আরো ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ, ২০২৪ সালে অভিযান শুরুর পর থেকে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪০ জনে।

আশরাফুল মামুন, মালয়েশিয়া
বন্দী শিবির
বন্দী শিবির |নয়া দিগন্ত

মালয়েশিয়ার বন্দী শিবিরগুলোতে ২০২৪ সালে শুরু হওয়া কঠোর অভিবাসন অভিযান শুরুর পর ১৪০ জন বন্দীর মৃত্যুর ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফোর্টিফাই রাইটস।

আটককেন্দ্রগুলোর অতিরিক্ত ভিড়, চিকিৎসা অবহেলা ও অমানবিক পরিবেশকে এসব মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে ফোর্টিফাই রাইটস। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে সংস্থাটি এ দাবি জানায়। তবে এর আগেও বন্দী শিবিরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলেও সরকার তা অস্বীকার করে।

ফোর্টিফাই রাইটস জানায়, পার্লামেন্টে দেয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির অভিবাসন আটককেন্দ্রে মোট ৪৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯৩ জন পুরুষ, ৬০ জন নারী এবং ১২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে সম্মিলিতভাবে ১০৯ জন আটক অবস্থায় মারা যান। এছাড়া গত মঙ্গলবার পার্লামেন্টে দেয়া আরেকটি তথ্যে জানানো হয়, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত আরো ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ, ২০২৪ সালে অভিযান শুরুর পর থেকে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪০ জনে।

ফোর্টিফাই রাইটসের মতে, ২০২৪ সালে সরকার ব্যাপক অভিবাসন অভিযান শুরু করার পর অনথিভুক্ত অভিবাসী ও শরণার্থীদের গ্রেফতার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ২০২৫ সালে গ্রেফতারের সংখ্যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

বর্তমানে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আটককেন্দ্রগুলোতে ২২ হাজার ৪৫ জন আটক রয়েছেন, যেখানে সরকারি ঘোষিত ধারণক্ষমতা ২১ হাজার ৫৩০ জন। ফলে কেন্দ্রগুলো অতিরিক্ত ভিড়ে মানবিক সঙ্কটে পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আটককেন্দ্রে মৃত্যুর কারণ হিসেবে সেপসিস, লেপ্টোস্পাইরোসিস ও মেনিনজাইটিসের মতো রোগের কথা উল্লেখ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ফোর্টিফাই রাইটসের ভাষ্য, এসব রোগ অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, দূষিত পানি, অস্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন, অতিরিক্ত ভিড় এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে হতে পারে। যথাযথ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে এসব মৃত্যুর অনেকগুলোই প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল।

২০২৫ সাল থেকে ফোর্টিফাই রাইটস মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অভিবাসন আটককেন্দ্র থেকে মুক্তি পাওয়া কয়েক ডজন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তাদের অভিযোগ, অসুস্থ হলেও অনেক সময় চিকিৎসা দেয়া হতো না, চিকিৎসা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। এমনকি চিকিৎসা চাইলে শাস্তির মুখেও পড়তে হয়েছে।

বাংলাদেশী এক সাবেক আটক ব্যক্তি বলেন, অসুস্থতার কথা জানালে অনেককে মারধর করা হতো। ফলে বেশির ভাগ বন্দী অসুস্থ হলেও তা জানাতে ভয় পেতেন। অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুপথযাত্রী না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালে নেয়া হতো না।

আরেক রোহিঙ্গা শরণার্থী জানান, জ্বর, পেটব্যাথা কিংবা মাথাব্যাথা যে সমস্যাই হোক না কেনো, প্রায় সব ক্ষেত্রেই শুধু একটি প্যারাসিটামল ট্যাবলেট দেয়া হতো।