মালয়েশিয়ায় ডিটেনশন ক্যাম্পে বাংলাদেশীসহ ৪৬৫ বন্দীর মৃত্যু

ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে মোট তিন লাখ ৪৯ হাজার ৮৫৬ জন বন্দী রাখা হয়েছিল। সে হিসেবে মৃত্যুর হার ছিল শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ। এর মধ্যে ৮৪ দশমিক পাঁচ শতাংশ পুরুষ এবং ৬০ জন নারী বন্দী ছিলেন।

আশরাফুল মামুন, মালয়েশিয়া
ডিটেনশন ক্যাম্পে মৃত্যু
ডিটেনশন ক্যাম্পে মৃত্যু |নয়া দিগন্ত

মালয়েশিয়া অভিবাসন বিভাগের অভিযানে আটকের পর ডিটেনশন ক্যাম্পে ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পাঁচ বছরে ৪৬৫ জন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল দেশটির সংসদে এ তথ্য তুলে ধরেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সংবাদ সংস্থা বারনামা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

এসময়ে ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে মোট তিন লাখ ৪৯ হাজার ৮৫৬ জন বন্দী রাখা হয়েছিল। সে হিসেবে মৃত্যুর হার ছিল শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ। এর মধ্যে ৮৪ দশমিক পাঁচ শতাংশ পুরুষ এবং ৬০ জন নারী বন্দী ছিলেন।

মৃতদের মধ্যে ১২ জন শিশু রয়েছে যাদের মধ্যে আটজন ছেলে ও চারজন মেয়ে। তবে মৃত্যু হওয়া ৪৬৫ জনের মধ্যে কতজন বাংলাদেশী রয়েছে সেটা উল্লেখ্য করা হয়নি। সবচেয়ে বেশি ২২২ জন ফিলিপিনো নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে, এরপর রয়েছে ইন্দোনেশীয়রা (১০৯ জন) এবং মিয়ানমারের নাগরিকরা (৬১ জন)। বাকি ৭৩টি ক্ষেত্রে ১৫ দশমিক সাত শতাংশ বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।

এই ৪৬৫ মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দীন নাসুশন বলেন, ‘এর মধ্যে সেপসিস ও সেপটিক শক, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, হৃদরোগ, পরিপাকতন্ত্র ও যকৃতের রোগ এবং এইচআইভি/এইডস, লেপ্টোস্পাইরোসিস ও মেনিনজাইটিসের মতো সংক্রামক রোগও অন্তর্ভুক্ত ছিল।’

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ‘অন্যদের মধ্যে পাকিস্তান, ইরাক, ইরান, বতসোয়ানা, ভেনেজুয়েলা, ব্রুনাই, ফিলিস্তিন, সিরীয় আরব প্রজাতন্ত্র ও যুক্তরাজ্যের নাগরিক এবং রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘ডিপোর কমান্ডারের অনুমতি নিয়ে আটকদের ফোন কল, চিঠি বা সাক্ষাতের মাধ্যমেও পরিবারের সাথে যোগাযোগের সুযোগ দেয়া হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘অভিবাসন বিভাগ প্রশাসনিক নির্দেশনা ও ডিপো ব্যবস্থাপনার উন্নতি করেছে, যার মধ্যে রয়েছে প্রবেশের সময় প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্রের উন্নততর রক্ষণাবেক্ষণ। সংক্রামক রোগের রোগী বা মানসিক স্বাস্থ্যজনিত জরুরি অবস্থার রোগীদের আলাদা করে রাখা, সেইসাথে সরাসরি হাসপাতাল বা বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠিয়ে দেয়ার ব্যাবস্থা করা।’