অবৈধ অভিবাসন রোধে কঠোর অবস্থানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

২০২৫ সালে ইইউভুক্ত দেশগুলো মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৬০ জনকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ইইউ সীমান্তে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৬০০ জন তৃতীয় দেশের নাগরিককে- এ হারও বেড়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ।

মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন, প্যারিস (ফ্রান্স)
ইইউ সীমান্তে আটক অনিয়মিত অভিবাসী দল
ইইউ সীমান্তে আটক অনিয়মিত অভিবাসী দল |সংগৃহীত

ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে আরো কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে অভিবাসী ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্স। চলতি বছরে দেশটি থেকে ১৪ হাজার ৯৪০ জন তৃতীয় দেশের নাগরিককে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাহিরে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

ইউরোস্ট্যাটের মঙ্গলবার (১২ মে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেরত পাঠানোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে জার্মানি, যেখানে ২৯ হাজার ২৯৫ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা সুইডেন থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে ১১ হাজার ২৫০ জনকে।

২০২৫ সালে ইইউভুক্ত দেশগুলো মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৬০ জনকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ইইউ সীমান্তে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৬০০ জন তৃতীয় দেশের নাগরিককে- এ হারও বেড়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ।

তবে ‘অবৈধভাবে অবস্থানরত’ হিসেবে শনাক্ত মানুষের সংখ্যা কমেছে। ২০২৪ সালে যেখানে এ সংখ্যা ছিল ৯ লাখ ১৮ হাজার ৫২৫, সেখানে ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১৯ হাজার ৩৯৫ জনে- এক বছরে হ্রাস ২১ দশমিক ৭ শতাংশ।

এছাড়া চলতি বছরে ইইউ দেশগুলো ৪ লাখ ৯১ হাজার ৯৫০ জন তৃতীয় দেশের নাগরিককে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।

ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন তুরস্কের নাগরিক- ১৩ হাজার ৪০৫ জন। এরপর জর্জিয়া, সিরিয়া ও আলবেনিয়ার নাগরিকদের ফেরত পাঠানো হয়েছে যথাক্রমে ১০ হাজার ৪৭৫, ৮ হাজার ৩৭০ এবং ৮ হাজার ২০ জন।

অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপজুড়ে অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ইইউ আরো কঠোর নীতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার, দ্রুত প্রত্যাবাসন এবং তৃতীয় দেশের সাথে সমন্বয় বাড়ানোকে সদস্য দেশগুলো অগ্রাধিকার দিচ্ছে।