কায়রোতে ‘অপহরণ নাটক’ ফাঁস, আদালতে ব্যবসায়ীর স্বীকারোক্তি

মিসর ত্যাগের আগে এক ভিডিও বার্তায় শরিফুল ইসলাম বলেন, "এক গণমাধ্যমকর্মীর খপ্পরে পড়ে আমি এ ভুল করেছি। আমার ভুলের জন্য সবার কাছে ক্ষমা চাইছি।"

কায়রোতে অপহরণ নাটকের হোতা শরিফুল
কায়রোতে অপহরণ নাটকের হোতা শরিফুল |সংগৃহীত

কায়রো (মিসর) সংবাদদাতা
মিসরের কায়রোতে বাংলাদেশী ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলামের কথিত অপহরণের ঘটনা তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। কায়রোর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, দেশে বিপুল ঋণের চাপ ও পাওনাদারদের এড়াতে পরিকল্পিতভাবে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। তবে এ ঘটনার জেরে মিসরের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে কয়েকজন বাংলাদেশী প্রবাসী হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম ব্যবসায় লোকসানের কারণে প্রায় এক কোটি টাকার ঋণে জড়িয়ে পড়েন। পরে এক নারীর সহযোগিতায় তিনি মিসরে যান। সেখানে কয়েক দিন অবস্থানের পর নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ না করে কর্মস্থল ছেড়ে কায়রোতে চলে যান এবং পরে বাংলাদেশ দূতাবাসে আশ্রয় নেন।

অভিযোগ রয়েছে, দূতাবাসে অবস্থানকালে একটি অপহরণের ভিডিও ধারণ করে থানায় অভিযোগ দেন তিনি। তবে জবানবন্দিতে অসঙ্গতি পাওয়ায় মিসরীয় পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। পরে আদালতে ও তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে তিনি স্বীকার করেন, দেশে ঋণের চাপ এড়াতে এবং নিজেকে মানসিকভাবে অসুস্থ হিসেবে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্যেই এ নাটক সাজিয়েছিলেন।

তার অভিযোগের ভিত্তিতে কায়রোর নিরাপত্তা সংস্থা অভিযান চালিয়ে সাত বাংলাদেশীকে আটক করে। পরে তিনজনকে ছেড়ে দেয়া হলেও চারজনকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত সবাইকে জামিন দিলেও বিদেশী নাগরিক হওয়ায় তাদের মুক্তির জন্য জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার ছাড়পত্র প্রয়োজন হয়।

প্রতিবেদনে আরো দাবি করা হয়েছে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক উপসচিব ও পরিচালকের স্বাক্ষরিত একটি সুপারিশপত্র কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠানো হয়েছিল। ওই চিঠিতে শরিফুলকে অপহরণ এবং তার কাছ থেকে ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়। এরপরই দূতাবাস স্থানীয় থানায় অভিযোগ করলে মিসরের নিরাপত্তা বাহিনী তদন্ত শুরু করে।

পরে শরিফুল ইসলাম, নাসিমা আক্তার ও শফিকুল ইসলাম রিপনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। তদন্ত শেষে বেলকু ফ্যাক্টরির বাংলাদেশী ম্যানেজার জজ মিয়ার ব্যবসায়িক ভিসাও বাতিল করে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মিসর ত্যাগের আগে এক ভিডিও বার্তায় শরিফুল ইসলাম বলেন, "এক গণমাধ্যমকর্মীর খপ্পরে পড়ে আমি এ ভুল করেছি। আমার ভুলের জন্য সবার কাছে ক্ষমা চাইছি।"

এ বিষয়ে কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের দূতালয় প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে খুদে বার্তারও কোনো উত্তর দেননি।