ফ্রান্সের সেইন-সাঁ-দোনী আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য (আসন-৪) ও সংসদের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাবিষয়ক কমিটির সদস্য সুমইয়া বোরোয়াহা বলেছেন, ‘ইসলামের শাশ্বত আদর্শের ভিত্তিতে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখতে হবে।’
ফ্রান্সে বাংলাদেশী কমিউনিটি মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশ কমিউনিটি মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট খন্দকার হোসাইনের সভাপতিত্বে ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের পরিচালনায় বিশেষ মেহমান হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্তা কম্যুনের মেয়র আজেদিন তাইবি।
এছাড়া অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- এসডিআরএম ৯৩-এর সহ-প্রতিনিধি সোর এলোদি ব্লঁদেল, গির্জার মুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে সম্পর্ক রক্ষার জন্য ডায়োসিস পর্যায়ের সেবা বিভাগের উইলহেম কোয়ান্দ্র, বাংলাদেশ কমিউনিটি মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের কোষাধ্যক্ষ কামরুল হাসান ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব জালাল আহমেদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশী নাগরিক পরিষদ ফ্রান্সের সভাপতি আবুল খায়ের লস্কর, ফ্রান্স বাংলাদেশ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন এফবিজেএ-এর সমন্বয়ক ও দৈনিক নয়া দিগন্তের ফ্রান্স প্রতিনিধি মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন, বাংলাদেশ কমিউনিটি মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক কাজী হাবিবুর রহমান, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব শহিদুল ইসলাম ও অ্যাক্টিভিস্ট খান খালেদ মাহমুদ।
অনুষ্ঠানে রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন মসজিদের ইমাম ও মাদরাসার শিক্ষক আহমাদুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফ্রান্সের সেইন-সাঁ-দোনী আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সুমইয়া বোরোয়াহা বলেন, ‘ফ্রান্সের মুসলিম নাগরিকরা আমাদের জাতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের অবদান আমাদের সমাজকে সমৃদ্ধ করেছে। আমরা সবাই মিলে এমন একটি সমাজ গড়তে চাই যেখানে সম্মান, সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘মুসলমানদের একসময় গৌরবময় অধ্যায় ছিল, সেই সময় ধর্মীয় অনুশীলন ও শিক্ষায় শীর্ষে ছিল তারা। সেই হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে সমন্বিতভাবে সবাইকে কাজ করতে হবে এবং পরবর্তী প্রজন্মকে আদর্শিক শিক্ষা ও ইতিহাস সম্পর্কে জানাতে হবে, যাতে করে তারা সঠিকভাবে সচেতন হয়ে বেড়ে উঠতে পারে।
বিশেষ অতিথি স্তা মেরীর মেয়র আজেদিন তাইবি তার বক্তব্যে বাংলাদেশী কমিউনিটির ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এই অনুষ্ঠান।’
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সিটি কর্পোরেশনের সহকারী মেয়র, প্যারিসের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা, কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা। ইফতার মাহফিলটি ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশী কমিউনিটির জন্য এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।



