বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারবর্গ, চীনের দূর-দূরান্তের বিভিন্ন প্রদেশ ও শহর হতে আগত প্রবাসী বাংলাদেশীরা, চীনা অতিথিবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী ও চীনা শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে বিজয় দিবস উদযাপনের প্রথম পর্বে চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো: নাজমুল ইসলাম দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধে সব বীর শহীদ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বাণী পাঠ করা হয়।
রাষ্ট্রদূত মো: নাজমুল ইসলাম তার বক্তব্যের শুরুতে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী সব বীর শহীদ, যুদ্ধে আহত সব বীর মুক্তিযোদ্ধা, সম্ভ্রমহারা মা-বোনদের অবদান ও আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। একই সাথে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ এবং আহত যোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বিজয় দিবস জাতীয় জীবনে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। এই সংগ্রাম কেবল রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রাম ছিল না, ছিল অর্থনৈতিক মুক্তি, সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা এবং মাথা উঁচু করে বাঁচার সংগ্রাম। একটি সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও আধুনিক বাংলাদেশ নির্মাণে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধের সব বীর শহীদ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের রূহের মাগফেরাত এবং দেশ ও জাতির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে বাংলাদেশী কমিউনিটির সদস্যবৃন্দ এবং চীনা শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এছাড়া সবার জন্য টেবিল টেনিস, ক্যারমসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
এর আগে, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গত ৬ ডিসেম্বর দূতাবাস প্রাঙ্গণে বাংলাদেশী শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। শিশু-কিশোররা বাংলাদেশ, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর চিত্রাঙ্কন করে। রাষ্ট্রদূত মো: নাজমুল ইসলাম চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয় ও অংশগ্রহণকারীদের পুরস্কার ও সনদ প্রদান করেন।



